লগইন করুন
সোশ্যাল মিডিয়া

© 2026 Samprotikee
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সাম্প্রতিকী ডেক্স আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২:০০ রাত ১৭ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

ধর্ম
অবৈধপন্থায় উপার্জিত সম্পদের দান-সদকা

মাওলানা ইমদাদুল হক: কিছু মানুষ এমন আছে, যাদের মাঝে কিছুটা দীনি চেতনা আছে, তবে ব্যক্তিজীবনে ইসলামের অনুশাসন মেনে চলে না। অথবা প্রথাগত কিছু ইবাদত-বন্দেগি করলেও, উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম বা বৈধ-অবৈধের তোয়াক্কা করে না। তারা কখনো কখনো অল্প-বিস্তর দান-সদকাও করে। কখনো সাওয়ারের আশায়, কখনো ভাবে, কালো টাকা সাদা করার মতো এই দানের ওসিলায় তার হারাম সম্পদ হয়ত হালাল হয়ে যাবে।

কিছু মানুষকে এমনও বলতে শোনা যায়, যেভাবেই হোক, টাকা-পয়সার মালিক না হলে ধর্মকর্মও করা যায় না। এ ধরনের একব্যক্তিকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কীভাবে সেটা? তিনি বলেছিলেন, যার ধনসম্পদ আছে সে গরীব-দুঃখীদের সাহায্য করে, মসজিদ-মাদরাসায় দান ও নির্মাণ করতে পারে। তাকে বলেছিলাম, অবৈধ সম্পদ এভাবে খরচ করা কোনো পুণ্যকর্ম বা ধর্মকর্ম নয়, বরং মারাত্মক ধরনের অধর্ম।

সম্পদ দান আল্লাহর নিকট পুণ্যকর্ম বলে গৃহিত হওয়ার জন্য দুটি অপরিহার্য শর্ত রয়েছে। ১. শুধুমাত্র মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পরিশুদ্ধ নিয়ত। নিয়ত নির্মল না হলে, বিরাট বিরাট দানও ধ্বংস ও জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। ২. উপার্জিত সম্পদ হালাল হওয়া। অবৈধ সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দেওয়াও কোনো পুণ্যকর্ম বলে বিবেচিত হবে না। এখন আমরা এ বিষয়ক কিছু হাদীস উল্লেখ করব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত নামায কবুল করেন না এবং আত্মসাতের মালের সদকা কবুল করেন না। (সহীহ মুসলিম, হাদীস-২২৪; সুনান তিরমিযি, হাদীস-১; সুনান নাসায়ি, হাদীস-১৩৯)।

আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি তোমার সম্পদের যাকাত আদায় করলে তখন তুমি এ সম্পদের ব্যাপারে তোমার অবশ্যকরণীয় বিধান পালন করলে। যে ব্যক্তি হারাম মাল উপার্জন করবে অতপর তা সদকা করবে সেই সদকায় তার কোনো সাওয়াব হবে না; বরং অবৈধ উপার্জনের পাপের বোঝা তার ঘাড়ে চেপেই থাকবে।(সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-৩২১৬; মুনতাকা ইবনুল জারূদ, হাদীস-৩৩৬; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-১৪৪০)।

একটি বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো পাপ পথে সম্পদ উপার্জন করল তারপর তা আত্মীয়তা রক্ষায় খরচ করল বা সদকা করল অথবা তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করল; তাহলে (কিয়ামতের মাঠে) এসব কিছুই একত্রিত করা হবে এবং তা জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। (মারাসীল আবু দাউদ, হাদীস-১৩১)।

আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রা. বলেন, কোনো ব্যক্তি হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তা থেকে (বৈধ ও নেক কাজে ) খরচ করলে তাতে বরকত দান করা হবে না। সে তা থেকে সদকা করলেও তা কবুল করা হবে না। বরং সেই ব্যক্তি ওই সম্পদ (মিরাছ হিসাবে) তার মৃত্যুর পর রেখে গেলেও তা তাকে আরো বেশি করে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পাপ দ্বারা অপর পাপকে নির্মূল করেন না। তবে নেক আমল দ্বারা পাপকে নির্মূল করেন। নিশ্চয়ই নাপাক বস্তু অপর নাপাক বস্তুর নাপাকি দূর করতে পারে না। (মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-৩৬৭২; মুসনাদ বাযযার, হাদীস-২০২৬)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রা.কে একবার জিজ্ঞাসা করা হল, যে ব্যক্তি এখন নেক আমল করছে; তবে পূর্বে যুলুম-অত্যাচার করত এবং হারাম গ্রহণ করত। এখন সে নেকদিলে তওবা করে পূর্বের সেই সম্পদ দিয়ে হজ্জ করল, গোলাম আযাদ করল এবং আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকা করল (তার ব্যাপারে কী বলেন?)। জবাবে তিনি বললেন, নিশ্চয়ই নাপাকি অপর নাপাকিকে দূর করতে পারে না। (মুসনাদ বাযযার, হাদীস-৯৩২)।

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবন উমার রা.র একটি বড় শিক্ষণীয় ঘটনা আছে। তাঁর সময়ে বসরার আমীর ছিল আব্দুল্লাহ ইবন আমির। সে মুসলিমদের বায়তুল মাল থেকে তার প্রাপ্যের চেয়ে বেশি গ্রহণ করত। কিন্তু তার স্বভাব ছিল, সে এসব সম্পদ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিত, মসজিদ নির্মাণের কাজে খরচ করত, বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করত। যখন সে মৃত্যুশয্যায় উপনীত হল তখন লোকজন তার চারপাশে ভিড় জমাল এবং তার দান-দাক্ষিণ্য ও মানুষের প্রতি তার অনুগ্রহের ভূয়সী প্রশংসা করতে লাগল। কিন্তু ইবন উমার রা. চুপচাপ রইলেন। যখন বসরার আমীর আব্দুল্লাহ ইবন আমির স্বয়ং তাঁকে কথা বলতে ও নিজের জন্য দুআ করতে আবেদন করল; তখন তিনি তাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের একটি হাদীস শোনালেন।
"আল্লাহ তাআলা আত্মসাতের মালের সদকা কবুল করেন না।" অতপর তাকে বললেন, তুমি তো বসরা শহরেরই আমীর ছিলে। অর্থাৎ আমি তোমার কীর্তিকর্ম সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত যে, তুমি বায়তুল মালের সম্পদ না-হকভাবে গ্রহণ করতে। সুতরাং কীভাবে তোমার এ সকল দান-সদকা কবুল হবে? আর তোমার জন্যে দুআ করলে সেই দুআই বা কীভাবে কবুল হবে? (সহীহ মুসলিম, হাদীস-২২৪; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-৪৭০০, ৫৪১৯।

একব্যক্তি বিশিষ্ট তাবিয়ি আতা রাহ.কে জিজ্ঞাসা করেন, আমি যখন অল্প বয়স্ক ছিলাম তখন এমন পন্থায় মাল উপার্জন করতাম, যা আমি এখন পছন্দ করি না (অর্থাৎ অবৈধ পন্থায়)। আমি তওবা করতে চাই। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি এ মাল তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও। সে বলল, আমি তো এখন তাদের সম্পর্কে কিছুই জানি না। তিনি বললেন, তাহলে তা সদকা করে দাও। এতে তোমার কোনো সাওয়াব হবে না। তুমি এর গোনাহ থেকে মুক্তি পাবে কি না তাও বলতে পারব না। (মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বা, হাদীস ২৩৫৯৪)।

সুতরাং যারা হারাম পথে সম্পদ উপার্জন করে আর মনে মনে ভাবে, এখান থেকে কিছু সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেব; তাতেই সব কালো সাদা হয়ে যাবে বা মহাপুণ্যের অধিকারী হওয়া যাবে, তাদের উচিত, এই সকল হাদীস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।

এর বিপরীতে হালাল ও বৈধ সম্পদ সদকা করার ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা কেবল (হারামের মিশ্রণ থেকে) পবিত্র বস্তুই কবুল করেন। যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে একমুষ্ঠি খেজুরও দান করে আল্লাহ পাক তা নিজ হাতে গ্রহণ করেন। অতপর তা ওই ব্যক্তির জন্য প্রতিপালন করতে থাকেন। যেমন তোমাদের কেউ উটের বাচ্চা প্রতিপালন করে। বৃদ্ধি পেতে পেতে এক সময় ওই সামান্য খেজুরমুষ্ঠি পাহাড়সম হয়ে যায়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪১০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০১৪।

আমরা দেখলাম, অবৈধপন্থায় উপার্জিত সম্পদের দান যেমন কবুল হয় না, তেমনি তা গচ্ছিত রেখে কবরে গেলে জাহান্নামে অতিরিক্ত শাস্তির কারণ হয়। এমনকি এ সম্পদ দ্বারা সত্যিকার পার্থিব কল্যাণ লাভ করাও সম্ভব হয় না। তা দ্বারা হয়ত সুখের আসবাব কিনে ঘর ভরে ফেলা যাবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুখ পাখি ধরা দেবে না। বরং বহুবিধ বিপদ-মসিবতের কারণ হবে এবং আত্মিক প্রশান্তি হরণ করে নেবে। প্রশান্ত অন্তর নিয়ে দুনিয়াকে উপভোগ করার সময় পাওয়া যাবে না, বরং সম্পদ নিয়ে নুডুবুডু আর হাচোড়পাচোড় করতে করতেই প্রাণপাখি উড়াল দিয়ে চলে যাবে।

মহান আল্লাহ বলেন, আর (হে নবী) আপনি বিস্মিত হবেন না তাদের ধনবল ও লোকবল দেখে। আল্লাহ তো বরং এই চান যে, এ সবের মাধ্যমে তিনি দুনিয়াতেই তাদেরকে আযাবের ভেতরে রাখবেন এবং তাদের প্রাণ নির্গত হওয়া পর্যন্ত যেন তারা অবিশ্বাসীই থাকে। (সূরা তাওবা, আয়াত ৫৫ ও ৮৫)।

ইমদাদুল হক
দারুস সুন্নাহ
আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

আলমডাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় বীর শহীদ মেজর বজলুল হুদার ১৬ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত

আলমডাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীয় বীর শহীদ মেজর বজলুল হুদার ১৬ তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত

৪ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট  রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল

জাতীয় নির্বাচন | আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল

১৯ ঘন্টা আগে
কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রার্থীর শোভাযাত্রা পণ্ড, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

জাতীয় নির্বাচন | কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রার্থীর শোভাযাত্রা পণ্ড, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

২০ ঘন্টা আগে
চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সার ও শিশুখাদ্য বিক্রি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সার ও শিশুখাদ্য বিক্রি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

২০ ঘন্টা আগে
ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় জনতার তোপের মুখে জামায়াত নেতা

জাতীয় নির্বাচন | ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় জনতার তোপের মুখে জামায়াত নেতা

২০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ

কৃ‌ষি | আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ

১ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

১ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

১ দিন আগে
দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

১ দিন আগে
মাথা গরমের কিছু নেই, রাজনীতি হলো নীতির খেলা : চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় নির্বাচন | মাথা গরমের কিছু নেই, রাজনীতি হলো নীতির খেলা : চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

২ দিন আগে

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।