সাম্প্রতিক

নিউজিল্যান্ডের কাছেই পাত্তা পেল না ভারত

আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ভারত। অথচ প্রস্তুতি ম্যাচেই হেরে গেল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। যে নিউজিল্যান্ডকে কিংবদন্তিদের কেউই বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাতো দূরে থাক, সেমিফাইলের কাতারেও রাখছেন না। অথচ সেই নিউজিল্যান্ডের কাছেই হেরে গেল বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দলটি।

শনিবার ইংল্যান্ডের কিংসটনে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড-ভারত। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের গতির মুখে পড়ে ৩৯.২ ওভারে ১৭৯ রানে অলআউট ভারত।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৭৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় পায় নিউজিল্যান্ড। দলের জয়ে জোড়া ফিফটি করেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

ভারতের বিপক্ষে ১৮০ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ভারতের মতো শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। স্কোর বোর্ডে ৩৭ রান তুলতেই দুই ওপেনার কলিন মুনরো ও মার্টিন গাপটিলের উইকেট হারায় ব্লাকক্যাপসা।

তৃতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। এই জুটিতে তরা যৌথভাবে ফিফটি গড়ার পাশাপশি করেন ১১৪ রান।

জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ১২১ বলে মাত্র ২৯ রান। খেলার এমন অবস্থায় যুজবেন্দ্র চাহালের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন উইলিয়ামসন। তার আগে ৮৭ বলে ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ৬৭ রান করেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।

বোল্টের বোলিং তোপে ১৭৯ রানে অলআউট ভারত

বোল্টের বোলিং তোপে ১৭৯ রানে অলআউট হয়েছে কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারত। নিউজিল্যান্ডের এই গতিময় পেসারের বোলিং তাণ্ডব দুইবারের বিশ্বকাপজয়ীরা।

শনিবার বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ভারত। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৪ রানেই টপ অর্ডারের তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে দৃশ্যত ছিটকে যায় কোহলিরা।

১১৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া ভারতকে টেনে হেচড়ে ১৭৯ রানে নিয়ে যান রবিন্দ্র জাদেজা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ বলে ৫৪ রান করেন ভারতীয় এ অলরাউন্ডার।

আগেই ভারতের ব্যাটিং দুর্বলতা ফুটে ওঠেছে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদারের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্টের গতিতে বিধ্বস্ত বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দলটি।

৮১ রানে ৬ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে এক ঘরে হয়ে যায় ভারত। ১৯.৪ ওভারেই রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, হার্দিক পান্ডিয়া এবং দিনেশ কার্তিকের উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ভারত।

স্কোর বোর্ডে মাত্র ২৪ রান যোগ করতেই তিন উইকেট হারায় ১৯৮৩ ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপজয়ী দল ভারত। দলের ব্যাটিং ধসের দিনে বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি অধিনায়ক কোহলি।

শনিবার ইংল্যান্ডের লন্ডন ওভালের কেনিংসটনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫.৩ ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেকায়দায় পড়ে যায় ভারত।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ভারত সেরা ওপেনার রোহিত শর্মা। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়া রোহিত ফেরেন মাত্র ২ রান করে। ট্রেন্ট বোল্টের গতির বলে বিভ্রান্ত হন তিনি।

রোহিত শর্মা আউট হওয়ার ঠিক পরের ওভারেই প্যাভেলিয়নে ফেরেন অন্য ওপেনার শিখর ধাওয়ান। ট্রেন্ট বোল্টের দ্বিতীয় শিকারে পরিনত হন তিনি।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্ট্যাম্প ভেঙে যায় লোকেশ রাহুলের। আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা রাহুল ফেরেন ১০ বলে মাত্র ৬ রান করে।

২৪ রানে প্রথম সারির ৩ উইকেট হারিয়ে এক ঘরে হয়ে যায়া ভারত। দলের ইনিংস মেরামত করার আগেই ফেরেন অধিনায়কও।

নিউজিল্যান্ডের পেসার কলিন ডি গ্রান্ডহোমের গতির বলে স্ট্যাম্প উড়ে যায় বর্তমান সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলির। ভারতীয় অধিনায়ক বোল্ড হওয়ার আগে ২৪ বলে মাত্র ১০ রান করার সুযোগ পান তিনি।

৩৯ রানে ৪ ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর দলকে খেলায় ফেরানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। পঞ্চম উইকেটে হার্দিক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এই জুটিতে ৩৮ রান করতেই বিপদে পড়েন পান্ডিয়া। ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেয়ার আগে ৩৭ বলে ৩০ রান করেন এ অলরাউন্ডার।

পান্ডিয়ার বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি দিনেশ কার্তিক। আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের এ অধিনায়ক ফেরেন মাত্র ৪ রানে।

৩৯ রানে চার ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর খেই হারিয়ে ফেলে ভারত। নিয়মিত উইকেট হারানোর পর সেভাবে লড়াই করতে পারেনি বিরাট কোহলির দলটি।

ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ওয়ানডে ম্যাচে টেস্টের আদলে ব্যাটিং করেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের এ অধিনায়ক।

দলীয় ৯১ রানে থেমে যায় ধোনির একার লড়াই। জেমস নিশামের বলে শটমিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দিয় সাজঘরে ফেরেন ধোনি। তার আগে ৪২ বল মোকাবেলা করে মাত্র ১৭ রান করার সুযোগ পান ভারত সেরা এ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।