সাম্প্রতিক

ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা গতির বোলার

স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটের বোলারদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় পেস বোলার আর স্পিন বোলার। স্পিন বোলিংটা রহস্যময় আর ফাস্ট বোলিংয়ে আছে গতির বন্য।

একজন ফাস্ট বোলারের অস্ত্র হিসেবে সুইং কিংবা লাইন-লেংথ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা ব্যাটসম্যানটিও গতির মুখোমুখি হতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করে। পাঠকদের জন্য ইতিহাসের সেরা ৫ গতির বোলারের তথ্য দেওয়া হল-

শোয়েব আখতার: ক্রিকেটে সেঞ্চুরি সবাই করতে চায় তবে সেটি ব্যাটিংয়ে, বোলিংয়ে নয়। বোলিংয়ে কোন বলার যত কম রান দিতে পারেন ততই মঙ্গল। তবে ফাস্ট বলারা যদি ১০০ মাইল প্রতি ঘন্টা বেগে বল করতে পারে তাহলে সেটি বিবেচিত হবে অসামান্য অর্জন হিসেবে। ক্রিকেট ইতিহাসের অফিশিয়াল ম্যাচ হিসেব করলে এ কাজটি কেবল মাত্র একজন বোলারি করতে পেরেছেন। তিনি হলেন পাকিস্তানের শোয়েব আখতার। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি একটি বল করেছিলেন ১৬১.৩ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে।

ব্রেট লি: শোয়েব আখতার যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এই অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার। ক্যারিয়ারের একটি সময় অনবরত ১৫০ গতিতে বল করে যেতেন তিনি। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৬১.১ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিতে বল করেন। ইতিহাসের দ্বিতীয় বলার হিসেবে তিনি ১০০ মাইল প্রতি ঘন্টায় বল করার রের্কড স্পর্শ করেন।

শন টেইট: এই অস্ট্রেলিয়া বলারের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ছিলো খুবই অল্প সময়ের। তিনি যতদিন খেলে গেছেন কোন দিন গতির সাথে আপোষ করেননি। প্রথাগত ফাস্ট বোলারের মতো উচ্চতা না থাকলেও তা বোলিংয়ে গতির সাথে লাইন লেন্থ ভালো ছিল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৬০.৭ কিলোমিটার বেগে তার বোলিং রেকর্ড ধারণ করা হয়। প্রচণ্ড গতি থাকা স্বত্ত্বেও টেইটের বোলিং অনেকাংশে ভারসাম্যহীন ও অনেকগুলো অতিরিক্ত রান দিয়ে থাকতেন তা স্বত্ত্বেও ব্যাটসম্যানদেরকে আউট এবং স্টাইক রেটের জন্য দলে রাখা হত তাকে। এছাড়াও, টেইটকে ব্যয়বহুল ওভার পরিচালনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

জেফ থমসন: ১৯৭৬ সালে যে মেশিন দিয়ে বলের গতি নির্ণয় করা হতো সেটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে এটা নিয়ে সন্দেহ নেই যে থমসন তার যুগে তিনি সেরা পেস বোলার ছিলেন।

থমসনের সময়ে তার বলের গতি পরিমাপ করা হয়েছিল ওয়াকা গ্রাউন্ডে। সেই যুগের ব্যাটসম্যানদের ধারণা তিনি পরবর্তী যুগের ব্রেট লি কিংবা শোয়েব আখতারের চেয়েও আরো বেশি গতিতে বল করতেন এবং থমসনের নিজের মনেও এই বিশ্বাস ছিলো। অনেক ক্রিকেটারের ধারণা ১৯৭৬ সালে কাদে আঘাত পাওয়ার আগে থমসম তার সেরা সময়ে ১৬২ থেকে ১৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে বল করছেন।

অ্যান্ডি রবার্টস: ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। হোল্ডিং মাস্টার্স গার্নার কিংবা রবার্টস প্রত্যেকেই গতিতে সেরা হলেও তাদের যুগে বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি রবার্টসকে গতিশীল বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়াকা গ্রাউন্ডে ১৫৯.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে বল করেন।