সাম্প্রতিক
হেপাটাইটিস বি’র ওষুধ আবিষ্কার!

হেপাটাইটিস বি’র ওষুধ আবিষ্কার!

হেপাটাইটিস বি’র ওষুধ আবিষ্কার!

হেপাটাইটিস বি’র ওষুধ আবিষ্কার!

বাংলাদেশের দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী সম্পূর্ণ নতুন এক ওষুধ আবিষ্কারের মাধ্যমে ‘হেপাটাইটিস বি’ চিকিৎসায় বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। স্বীকৃতি মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (এফডিএ) একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে। এ আবিষ্কারের ফলে ‘হেপাটাইটিস বি’র কারণে আর কাউকে মৃত্যুবরণ করতে হবে না বলে জানিয়েছেন ওই দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী। যাদের হাত ধরে এ বিস্ময়কর অর্জন তারা হলেন- জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।

এ দুই চিকিৎসা বিজ্ঞানী ৭৫ জন রোগীকে ১০ বার তাদের গবেষণালব্ধ ফর্মুলা ‘ন্যাসভ্যাক’ প্রয়োগ করে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে অধিকতর উন্নতি দেখতে পান। তাছাড়া প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও ‘ন্যাসভ্যাক’ প্রয়োগে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি, যা বিশ্বে লিভার-সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে কিউবা এ ফর্মুলা ব্যবহার করে ওষুধ তৈরি করে তা ‘হেপাটাইটিস বি’ চিকিৎসায় ব্যবহারও করছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) বলেন, গবেষণাটি বাংলাদেশে প্রথম কোনো অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মলিকুলার ট্রায়েল।

অর্থাৎ ওষুধ আবিষ্কারের আগেই মৌলিক উপাদানগুলো রোগীর শরীরে ব্যবহার করে ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এটিই বাংলাদেশে ডেভেলপ করা প্রথম পদ্ধতি যা ক্রনিক ইনফেকশনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে। এ পদ্ধতি অনুসরণ করে অদূর ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে। ডা. স্বপ্নীল বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হল যে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কার সম্ভব। কিউবার সরকারি রিসার্চ প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি’ ডা. আকবর ও ডা. স্বপ্নীলের গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে ‘হেপাটাইটিস বি’ রোগের চিকিৎসায় ‘হেবার-ন্যাসভ্যাক’ নামে একটি নতুন ওষুধ তৈরি করে।

কিউবা ও জাপানে প্রাথমিক গবেষণায় এটি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশে ক্রনিক ‘হেপাটাইসিস বি’ রোগীদের চিকিৎসায় ‘ন্যাসভ্যাক’ পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে ২০০৯ সালে ১৮ জন রোগীর ওপর ‘ন্যাসভ্যাক’র ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (ফেজ-১ ও ফেজ-২) পরিচালিত হয়। এ ট্রায়ালের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ছিলেন ডা. স্বপ্নীল আর কো-প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ও আন্তর্জাতিক কোলাবোরেটর ছিলেন ডা. আকবর। এতে ‘ন্যাসভ্যাক’ পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং বর্তমানে ‘হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসায় ব্যবহৃত অন্য সব ওষুধের তুলনায় অধিকতর নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হয়।

পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন বর্তমান বিশ্বে ‘হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসায় সবচেয়ে কার্যকর ও সবচেয়ে দামি ওষুধ হিসেবেও পরিচিত। এর ৪৮টি ডোজের খরচ বাংলাদেশে প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ফেজ-৩ ট্রায়ালটি ২০১৩ সালে পৃথিবীতে লিভার বিশেষজ্ঞদের সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক কনফারেন্স হিসেবে স্বীকৃত। তাছাড়া আমেরিকান লিভার মিটিংয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিস্টিংশন পদক লাভ করে। ‘ন্যাসভ্যাক’র অধিকতর গবেষণা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি একে পৃথিবীতে ‘হেপাটাইটিস বি’ চিকিৎসায় একটি নতুন ওষুধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। সেক্ষেত্রে ‘ন্যাসভ্যাক’ই হবে বাংলাদেশী গবেষকদের জন্য এ ধরনের প্রথম কৃতিত্ব।

‘ন্যাসভ্যাক’ সম্প্রতি কিউবার ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রেজিস্ট্রেশন লাভ করেছে। কিউবায় এ ওষুধটির বাণিজ্যিক নাম ‘হেবার-ন্যাসভ্যাক’। বর্তমানে রাশিয়া ও চীনে ন্যাসভ্যাকের মাল্টিসেন্টার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। আশা করা যায়, ওষুধটি ২০১৮-১৯ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী বাজারজাত হবে।