সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নানামুখী ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সমন্বিত বা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এই গুচ্ছ ব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাবে পুরো প্রক্রিয়াটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
একক ভর্তি পরীক্ষার ঝক্কি ও আর্থিক চাপ কমাতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির সূচনা হয়েছিল। পরের বছর এই তালিকায় আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২২-এ। পরবর্তীতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে এরপরই শুরু হয় উল্টো যাত্রা। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় গুচ্ছের আওতা সংকুচিত হয়। আগামীতে আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা না থাকলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা পরীক্ষার কারণে তাদের চরম ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার তারিখ কাছাকাছি হওয়ায় সব ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও সম্ভব হয়ে ওঠে না।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে এক বৈঠকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সমন্বিত ভর্তি কাঠামোর আওতায় আনার ওপর তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে ভর্তি কার্যক্রম একটি সুনির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অধীনে নিয়ে আসতে ইউজিসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস পার হয়ে গেলেও সেই উদ্যোগের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তি পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি দিতে একটি সুসংগঠিত ও স্থায়ী ভর্তি পদ্ধতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকার ও ইউজিসিকে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।