চুয়াডাঙ্গায় ডিসির ভাই পরিচয়ে প্রতারণা: কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, আটক ২
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
চুয়াডাঙ্গায় ডিসির ভাই পরিচয়ে প্রতারণা: কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ, আটক ২
চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বড় ভাই পরিচয়ে সরকারি চাকরি ও নিলামের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় প্রতারক চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌরসভার পাশের এলাকায় দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুসলিমপাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে রাসেল আলী নিলামে পুরাতন ঘরবাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে আলমডাঙ্গার বাসিন্দা হেলাল নামের এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। হেলাল তাকে সরকারি নিলামের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুর এলাকার হাজী ইসমাইল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম ডাবলুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
জাহিদুল ইসলাম ডাবলু নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের বড় ভাই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজে সরাসরি টাকা না নিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্য মিরপুর উপজেলার কুর্শা গ্রামের আফসার আলীর ছেলে তফসের আলী ও একই গ্রামের মুকুল চাঁনের ছেলে কালু মণ্ডলের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করতেন।
ভুক্তভোগী রাসেল আলীর দাবি, প্রথমে তিনি তফসের আলীকে ৫০ হাজার টাকা দেন। পরে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৬ হাজার টাকা প্রদান করেন। সব মিলিয়ে প্রতারক চক্রকে তিনি ৫৬ হাজার টাকা দেন।
রাসেল আলী জানান, বুধবার তাকে সারাদিন চুয়াডাঙ্গায় বসিয়ে রেখে হেলাল, তফসের ও কালু বলেন যে, জেলা প্রশাসকের ভাই এসে কাজের বিষয়ে কথা বলবেন। কিন্তু দিনভর অপেক্ষার পরও কেউ আসেননি। পরে তারা আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে জানায়, ওই টাকা না দিলে ‘ডিসি স্যারের ভাই’ আসবেন না।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে রাসেল আলী তার পরিচিত কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও তাকে টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। পরে আলমডাঙ্গা পৌরসভার পাশের এলাকায় টাকা লেনদেনের সময় স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
পরে স্থানীয়রা জাহিদুল ইসলাম ডাবলু ও কালু মণ্ডলকে আটক করে আলমডাঙ্গা থানা-এ সোপর্দ করেন। এ সময় প্রতারক চক্রের অপর দুই সদস্য হেলাল ও তফসের পালিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল শামীম আলমডাঙ্গা থানায় এসে ঘটনাটি তদন্ত করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক দুই ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-এ হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
সুনামগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে আসলেন চুয়াডাঙ্গায়
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রবাসী ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হক লিপুর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডাস্টবিন স্থাপন
৪ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
১৭ ঘন্টা আগে