এক ও দুই টাকার বৈধ্য কয়েন
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
৫ বছর ধরে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা | চুয়াডাঙ্গার কোথাও চলে না এক বা দুই টাকার কয়েন
কাগজে-কলমে রাষ্ট্রীয়ভাবে সচল থাকলেও চুয়াডাঙ্গায় এক ও দুই টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েনের অচল দশা কাটেনি। গত পাঁচ বছর ধরে চলা এই অচলাবস্থা বর্তমানে আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। হাটবাজার, গণপরিবহন কিংবা ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—কোথাওই এখন এই কয়েন নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি ভিক্ষুকেরা পর্যন্ত এক বা দুই টাকার কয়েন নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। ফলে পকেটে বা ড্রয়ারে কয়েন জমিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার, নিচের বাজারসহ আলমডাঙ্গা উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলা এবং জীবননগর উপজেলার প্রতিটি এলাকার চিত্র এখন একই রকম। মুদি দোকান বা চায়ের দোকানে কেনাকাটার পর খুচরা টাকা হিসেবে এক বা দুই টাকার কয়েন দিলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে শুরু হয় তর্কাতর্কি। চায়ের দোকানিরা জানান, পাঁচ বা সাত টাকার চা বিক্রি করার পর ক্রেতারা খুচরা কয়েন দিলে তা রাখা সম্ভব হয় না। কারণ মহাজন বা পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই কয়েন একদমই নিতে চান না। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের কয়েন ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
কয়েক বছর আগে স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে কয়েন সচল করার ব্যাপারে আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোও এখন আর এসব ধাতব মুদ্রা জমা নিতে চায় না। ফলে হাজার হাজার টাকার কয়েন অলস পড়ে আছে ব্যবসায়ীদের ঘরে। কী কারণে চুয়াডাঙ্গায় এই কয়েন বর্জনের সংস্কৃতি তৈরি হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর কারও জানা নেই। প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই এর জন্য দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতে, প্রচলিত মুদ্রা নিতে অস্বীকৃতি জানানো আইনত অপরাধ। দীর্ঘদিন ধরে কয়েন অবিক্রীত বা অলস পড়ে থাকায় স্থানীয় অর্থনীতিতে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত মোবাইল কোর্ট বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই জনভোগান্তি দূর হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
এ বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দাবি, কয়েন জমা নেওয়ার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে কয়েন না নেওয়ার এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মুদ্রা বর্জন করার কোনো সুযোগ নেই। হাটবাজারে কয়েন লেনদেন স্বাভাবিক করতে এবং ব্যাংকগুলোর অনীহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি রিকশা ও চুলায় বাড়ছে অর্থনীতির চাপ, কোথায় সমাধান?
২ দিন আগে
আইসিসিবিতে চলছে গাড়ির হাটসহ দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
৬ দিন আগে
অর্থনৈতিক উত্থানের গল্প ও বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা
৬ দিন আগে