আলমডাঙ্গায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, সামারি ট্রায়ালে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, সামারি ট্রায়ালে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদন্ড
আলমডাঙ্গায় মাদক নির্মূলে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। ২৯ জুন সোমবার দিনগত রাতে পৌর এলাকায় ও ৩০ জুন সকালে মাদারহুদা গ্রামে অভিযানে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। পরে সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) শেষে আদালত তাদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে আলমডাঙ্গা থানার এসআই শাহরিয়ার হুসাইন রুবেল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৌর এলাকার এরশাদপুর মসজিদপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পারভেজের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তা থেকে এরশাদপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সোহাগ (৩০)কে মাদক বিক্রয়কালে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক ঘটনাস্থলেই জব্দ করে তাকে থানায় নেওয়া হয়।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই শোভন কুমার কুণ্ডু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা উপজেলার মাদারহুদা পশ্চিমপাড়া গ্রামের নেকবার আলীর মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তা থেকে মাদারহুদা স্কুলপাড়ার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাদক কারবারি পাপ্পু (২৬)কে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দকৃত আলামতসহ তাকে থানায় নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে চুয়াডাঙ্গার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত) মো. মোস্তফা কামাল শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মো. সোহাগকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই ধারায় মো. পাপ্পুকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী, কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। উপজেলার সর্বত্র মাদক নির্মূলে 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে এ অভিযান চলবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত মাদক উদ্ধার এবং দ্রুত বিচারের ফলে আলমডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। তবে মাদকের উৎস সম্পূর্ণ নির্মূল করতে আরও ব্যাপক ও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১২ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৫ ঘন্টা আগে