আজ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় চুয়াডাঙ্গায়

হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। মঙ্গলবার সকালে জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন; বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলার ওপর দিয়ে এখন মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
তীব্র শীতের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সকালে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষকে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। মাঠে কাজ করতে যাওয়া এক কৃষক বলছিলেন, "ভোরে বের হলে হাত-পা বরফ হয়ে যায়। মনে হয় ফ্রিজের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু পেটের দায়ে বের হতেই হয়।"
শীতের প্রভাব পড়েছে জেলার শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও। রিফা নামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সে এখন ভ্যান বা ইজিবাইকে না চড়ে হেঁটেই স্কুলে যাচ্ছে। এতে শরীর কিছুটা গরম হলেও হাত-পা অবশ হয়ে আসে। তীব্র ঠান্ডার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেলা ১১টার আগে বাজারে ক্রেতার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।
শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে। সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বড় অংশই শিশু ও বয়স্ক। চিকিৎসকেরা এই তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ সতর্কতায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই শৈত্যপ্রবাহ আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।












