দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়, বিপাকে জনজীবন

চুয়াডাঙ্গায় আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৯টায় জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল হাওয়া আর তীব্র ঠান্ডায় জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভোরে কাজের সন্ধানে বের হওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার এক দিনের জন্য শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও আজ থেকে জেলায় আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা কমে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতিও বেশি হচ্ছে।
শীতের প্রকোপ বাড়ায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে জীবনযাত্রার তাগিদে কনকনে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। শহরের বড়বাজার এলাকায় কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর বরকত উল্লাহ বলেন, “শীতে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কাজ না করলে পরিবার না খেয়ে থাকবে, তাই বাধ্য হয়েই ভোরে বের হয়েছি।” একই অবস্থা রিকশা ও ভ্যানচালকদেরও। যাত্রী কমে যাওয়ায় তাদের দৈনিক আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
এদিকে গতকাল সারা দিন সূর্যের দেখা না মেলায় জেলাজুড়ে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হয়েছে। আজ সকালে কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের আংশিক দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের কারণে ঠান্ডার দাপট কমেনি। তীব্র এই শীতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। শহরের মোড়ে মোড়ে ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবীদের।












