ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে কুষ্টিয়া আঞ্চলে প্রথম আলমডাঙ্গার শিশু মাহবীর হাসান রুশদান

কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক পর্বে বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর সেই মঞ্চে আলমডাঙ্গার শিশু মাহবীর হাসান রুশদান তার ক্যাটাগরি এ-তে ১ম স্থান অধিকার করে এলাকার গর্ব হয়ে উঠেছে।
হাটবোয়ালিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার বাসিন্দা কবি আসিফ জাহানের ছোট ছেলে মাহবীর, শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার কাগজপত্রে নয়, বরং কল্পনার জগতে ও বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম সূত্রে নিজের পরিচয় মেলে ধরেছে। এই সাফল্য কেবল তার নয়, বরং পুরো আলমডাঙ্গার শিক্ষাক্ষেত্রের আশা জাগানিয়া ও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল প্রদীপ।
স্থানীয়রা বলছেন, মাহবীরের জয় যেন আলমডাঙ্গায় আনন্দের বাতাস বইয়ে দিয়েছে। যে ছেলেটি রাস্তার ধারে, পাড়ার মাঠে খেলে বেড়াত, আজ তার হাতে প্রতীক হয়ে উঠেছে বিজ্ঞানের স্বপ্ন ও অনুপ্রেরণার চাবি।
মাহবীর নিজেও জানায়, “অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভালোবাসা আর সমর্থন না থাকলে এতদূর আসা সম্ভব হত না। আলমডাঙ্গার শিক্ষার্থীরা আরও বড় কিছু করতে পারে—এটাই আমাদের অনুপ্রেরণা।”
এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত জয় নয়, আলমডাঙ্গার শিক্ষার মান ও সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। স্থানীয়রা গর্বিত, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আনন্দিত। মাহবীরের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আলমডাঙ্গার মাটিতে নতুন আশা কমল ফোটাচ্ছে।
মাহবীর হাসানের রুশদানের এই জয় প্রমাণ করে, স্বপ্ন, ধৈর্য্য ও পরিশ্রমের মিশ্রণে জয় যে কোনো সময় আসতে পারে, আর তার আলো আলমডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড–২০২৬ এর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পর্ব গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। বিজ্ঞানচর্চা ও মেধা বিকাশে এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
আজকের আঞ্চলিক পর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ইতোপূর্বে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, যুক্তিবোধ ও সৃজনশীলতা বাড়ানো। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে পদার্থবিজ্ঞানের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, এই অলিম্পিয়াড তাদের বিজ্ঞানভীতিকে কমিয়েছে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে ভালো করার আশাবাদ ব্যক্ত করে।












