শৈশবে ফেরার দিন: মেহেরপুরে প্রবীণদের মিলনমেলা

মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া দেড় শতাধিক প্রবীণ মানুষ এক দিনের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন শৈশবে। হারানো বন্ধুদের ফিরে পাওয়া আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দিনটি কাটালেন তারা। গতকাল শনিবার দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী এই ‘প্রবীণ মেলা’র আয়োজন করে চকশ্যামনগর সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন।
সকাল আটটায় ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি ১১৫ বছর বয়সী আজিল হক। এ সময় তাকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। গ্রামের তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন প্রবীণদের। দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শুরু হয় স্মৃতিচারণা, হাসি আর গল্পের আড্ডা।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রবীণদের জন্য বিশেষ খেলাধুলা। বয়সের বাধা পেরিয়ে তারা মেতে ওঠেন প্রাণের উচ্ছ্বাসে। মেলায় ছিল খাবারের বিশেষ আয়োজনও। সকালে কলাপাতায় চিড়া, দই, মুড়কি, গুড় ও রসগোল্লা দিয়ে ঐতিহ্যবাহী নাশতা এবং দুপুরে মাংস-ভাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে গ্রামের প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে স্থানীয় প্রবীণ আব্দুর রহমান ও জামাল উদ্দীন বলেন, “ছোটবেলায় খেলাধুলায় মগ্ন থাকলে মা খাওয়ার জন্য বারবার ডাকতেন, বকাবকি করতেন। অনেক দিন পর আবার সেই শৈশবে ফিরে গেলাম। গত বছরও যারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে ছয়জন এবার নেই। আগামী বছর আবার সবাই একসঙ্গে হতে পারব কি না জানি না।”
আয়োজক কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম রকি জানান, মূলত প্রবীণদের একঘেয়েমি দূর করতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই আয়োজন। তারা যেন অন্তত একটি দিন নিজেদের হারানো শৈশব আর বন্ধুদের ফিরে পান, সেটাই ছিল লক্ষ্য। প্রবীণদের প্রতি তরুণ প্রজন্মের এই মমতা ও শ্রদ্ধা পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।












