৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভাঙন পেরিয়ে ঐক্য: বিজয় নিশ্চিত করতে আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুই শক্তি এক ময়দানে

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
জানুয়ারি ২, ২০২৬
87
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
ছবি : 

রহমান মুকুল: আলমডাঙ্গা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস দশ দিন বাকি। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চুয়াডাঙ্গা–১ (আলমডাঙ্গা) আসনে বিএনপির রাজনীতিতে ঘটেছে বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিন বিভক্ত থাকা বিএনপির দুই প্রভাবশালী গ্রুপ অবশেষে একত্রিত হয়ে নির্বাচনের মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আলমডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।


গত ১ জানুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে শহরের লাইলা কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঐক্যের ঘোষণা আসে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফের সঙ্গে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জনপ্রিয় নেতা শহিদুল কাউনাইন টিলু এবং তার অনুসারী নেতৃবৃন্দ একসঙ্গে বসেন। এই বৈঠককে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
মতবিনিময়ে উপস্থিত নেতারা টিলু গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিম, আনিছুর রহমান আনিছসহ প্রতিটি ইউনিয়ন এবং পৌর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা।


অন্যদিকে শরিফুজ্জামান শরিফের সঙ্গে জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাসহ উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম রোকন চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টুসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
এই উপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়—এটি শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং মাঠের রাজনীতিতে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার।


নির্বাচনী বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী জোট। প্রায় এক বছর আগে তারা তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা, সংগঠিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা—সব মিলিয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে ছিল।


অন্যদিকে দলীয় বিভক্তি ও সময়ের অভাবে বিএনপি প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ে। এত অল্প সময়ে এই ব্যবধান ঘোচানো কঠিন হয়ে উঠেছিল। এই বাস্তবতা বুঝেই শরিফুজ্জামান শরিফ শুরু থেকেই আলমডাঙ্গার বিভক্ত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হলো।

আলমডাঙ্গার রাজনীতিতে শহিদুল কাউনাইন টিলু একটি আলাদা অধ্যায়। তিনি শুধু একজন নেতা নন, তিনি বহু মানুষের রাজনৈতিক ভরসার জায়গা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘টিলু উস্তাদ’ নামে পরিচিত। দলমত নির্বিশেষে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, তিনি এমন একজন নেতা—যিনি মাঠে নামলে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি রাজনীতির হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা।


তিনি যদি ধানের শীষের পক্ষে পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামেন, তাহলে নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব পড়বে—এমনটাই ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে।

টিলু উস্তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম আসিরুল ইসলাম সেলিম। তিমি পরিশ্রমী ও জনবান্ধব নেতা। তিনি শুধু জেহালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন—এটি তার পরিচয়ের একটি অংশমাত্র। বাস্তবে তিনি একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী, জনসংযোগে দক্ষ ও মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছাতে পারা নেতা।


এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে সুখে-দুঃখে পাশে পাওয়া একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবেই দেখে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি বাস্তববাদী, কর্মীদের মূল্যায়নে আন্তরিক। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানুষের আস্থাই তাকে আলমডাঙ্গার রাজনীতিতে একজন শক্ত ভিত্তির নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শেখ সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভদ্রতা ও বিশ্বাসের প্রতীক তিমি। তিনি ভদ্র, শান্ত ও মিষ্টভাষী নেতা হিসেবে পরিচিত। রাজনীতিতে থেকেও তিনি কখনো কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতিতে জড়াননি। তার সবচেয়ে বড় শক্তি তার ক্লিন ইমেজ।


কর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ। মতের অমিল হলেও তিনি সংযমী থাকেন, সমাধানের পথ খোঁজেন। এই গুণগুলো তাকে তৃণমূল পর্যায়ে একজন বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতায় পরিণত করেছে।

দলীয় সংকটে তার উপস্থিতি অনেক সময় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে—এমনটাই মনে করেন নেতাকর্মীরা।
ঐক্যের বার্তা ও সম্ভাবনা এই দুই নেতাসহ তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা একসঙ্গে মাঠে নামলে বিএনপির প্রচারণা নতুন গতি পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ভোটারদের মাঝেও ঐক্যের বার্তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলমডাঙ্গার রাজনীতিতে বিএনপির এই ঐক্য একটি বড় মোড়। সময় কম, চ্যালেঞ্জ বড়। তবে ঐক্য, সংগঠন ও সঠিক কৌশল কাজে লাগাতে পারলে সব প্রতিকূলতা জয় করা অসম্ভব নয়।


একটি বিষয় স্পষ্ট—বিএনপির দুই গ্রুপ এক হওয়ায় আলমডাঙ্গার নির্বাচনী লড়াই এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মাঠের রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram