৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প‌রিবা‌রের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধে সৌদি আরবে আলমডাঙ্গার ফজলুল হকের মৃত্যু

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
জানুয়ারি ১, ২০২৬
102
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
ছবি : 

পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রবাসে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল উত্তরপাড়ার ফজলুল হক ওরফে ফজা (৪৭)। গত ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সৌদি আরবের আল কাসিম প্রদেশের রোবাইদা শহরে কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ফজলুল হক। সহকর্মীরা দ্রæত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেলের দিকে মৃত্যুর খবরটি আলমডাঙ্গায় পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের মাতম।


ফজলুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বন্ডবিল উত্তরপাড়ার দাউদ আলীর ছেলে। জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই কেটেছে তার প্রবাসজীবনে।

পরিবারকে ভালো রাখতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে বিদেশের মাটিতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন তিনি। সর্বশেষ প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকেই তিনি বুকের বাম পাশে ব্যথা অনুভব করছিলেন। বিষয়টি অবহেলা না করে তিনি সৌদি আরবে চিকিৎসকের কাছে যান এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করছিলেন। তারপর থেকে ভালই ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে স্বাভাবিকভাবেই কাজে যোগ দেন। কর্মস্থলে কাজ করার একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রæত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়। ধারণা করা হচ্ছে স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।


মৃত ফজলুল হক এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে শাওন (২২) শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মেয়েটি বিবাহিত। বাড়িতে রয়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ফলে তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তা ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।


ফজলুল হকের জামাই শাহিন আলম জানান, প্রতিদিনই শ্বশুরের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হতো। মৃত্যুর আগের রাতেও তাদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্বশুর কয়েক দিন ধরে বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন খবর আমাদের জন্য মেনে নেওয়া খুব কষ্টের। ফজলুল হকের মরদেহ দ্রæত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।


প্রবাসে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এই শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যুতে এলাকাবাসী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram