দৌলতপুরে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল ইসলামের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর প্রভাব খাটিয়ে তিনি মাগুরা থেকে দৌলতপুরে বদলি হয়ে আসেন। সাবেক ওই এমপির ‘ভাতিজা’ পরিচয় দিয়ে এবং জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
পিয়ারপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিজস্ব ভবন না থাকায় রাকিবুল ইসলামের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে মাসিক চুক্তিতে রোগীদের নিম্নমানের ওষুধ লিখে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাকিবুল ইসলাম প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা তাঁর রূঢ় আচরণের শিকার হন। এনামুল হক নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, “জরুরি সেবা নিতে এসেও আমরা তাঁর অবহেলার কারণে চিকিৎসা পাচ্ছি না।” রূপালি খাতুন নামের আরেক রোগী আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তার সাহেব চেয়ারে বসে দালালদের সঙ্গে গল্প করেন, কিন্তু রোগীদের কথা শোনার সময় তাঁর নেই। আমরা এই ধরণের স্বাস্থ্যসেবা চাই না।”
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় থেকে রাকিবুল ইসলাম সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী তাঁকে দ্রুত বদলি করার দাবি জানিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।












