আলমডাঙ্গায় আফিয়া নূর ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত: কেন্দ্রে অভিভাবকের ভিড়

আলমডাঙ্গা উপজেলায় বেসরকারি পর্যায়ে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান আফিয়া নূর ফাউন্ডেশন আয়োজিত “আফিয়া নূর বৃত্তি প্রকল্প ২০২৫” এর বৃত্তি পরীক্ষা শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
এই পরীক্ষায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসাসহ উপজেলার ৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৩১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি, চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি এবং সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ট্যালেন্টপুল, প্রথম গ্রেড, সাধারণ গ্রেড ও বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র জুড়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় অভিভাবকদের সন্তুষ্টি ছিল স্পষ্ট। অনেক অভিভাবক বলেন, এমন উদ্যোগ শিশুদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ায় এবং নিয়মিত প্রস্তুতিতে উৎসাহ দেয়।
পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন আফিয়া নূর ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, আমেরিকা প্রবাসী ঔষধ বিজ্ঞানী ড. মাসুদ পারভেজ, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোনয়েম, প্রভাষক তাপস রশিদ, ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, সদস্য সচিব ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি সাংবাদিক রহমান মুকুল, জেলা জামায়াতের আইন সম্পাদক দারুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর শফিউল আলম বকুল, সেক্রেটারি মুহা. মামুন রেজা, পৌর আমীর মাহের আলী, সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, আফিয়া নূর ফাউন্ডেশনের কো চেয়ারম্যান সহকারি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম আব্দুর রহমান, আফিয়া নূর ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক গুণ গড়ে তোলা জরুরি। এমন প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, চার বছর বয়সী শিশু আফিয়া নূরের স্মৃতিকে ধরে রাখতে তার পিতা শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু ২০২৩ সালে আফিয়া নূর ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া সন্তানের নামে গড়ে ওঠা এই ফাউন্ডেশন আজ আলমডাঙ্গার শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।












