৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় মহিউদ্দীন একাডেমির সফল দুই বছর: মেধাবী ও হাফেজ শিক্ষার্থিদের সম্মাননা প্রদান

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫
129
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
ছবি : 

রহমান মুকুল: আলমডাঙ্গার কামালপুরে এক টুকরো আলোর নাম মহিউদ্দীন একাডেমি। ধর্মীয় মূল্যবোধ আর আধুনিক শিক্ষার সেতুবন্ধনে গড়ে ওঠা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অল্পদিনেই অর্জন করেছে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা। সেই ভালোবাসারই এক অনন্য প্রকাশ ঘটল একাডেমির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী পুরস্কার বিতরণী ও হাফেজ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে।


গতকাল ২৪ ডিসেম্বর, সকাল সাড়ে ৯টায় দিনব্যাপী এই আয়োজনের শুভ উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সময় তিনি বলেন— “আজকের সমাজে কেবল বইয়ের জ্ঞান নয়, প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে সৎ পথে রাখে, আর আধুনিক শিক্ষা তাকে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে নেয়। এই দুইয়ের সমন্বয়ই একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলে। মহিউদ্দীন একাডেমি সেই দায়িত্ব সচেতনভাবেই পালন করছে।”


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সভাপতি, লন্ডন প্রবাসী মহিউদ্দীন আহমেদ। তাঁর কণ্ঠে ছিল প্রবাস থেকেও মাতৃভূমির শিক্ষা নিয়ে গভীর দায়বদ্ধতার কথা।


এ সময় তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা তাঁর জীবনের অন্যতম স্বপ্ন, আর মহিউদ্দীন একাডেমি সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর নাছিরুদ্দিন আজহারী, ঢাকা উত্তরার দারুল আকরামের শাইখুল হাদিস ড. শিব্বির আহমেদ, আবু জাবের আজহারী এবং এফসিএবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল কাদির। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, ভাষা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভাইস প্রিন্সিপাল আমিনুর রশিদ মোল্লা আজহারী। স্বাগত বক্তব্যে ভাইস প্রিন্সিপাল আমিনুর রশিদ মোল্লা আজহারী বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান শুধু পরীক্ষার ফল নয়, গড়ে তুলতে চায় আলোকিত মানুষ।
এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাস করাতে নয়, বরং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।"

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আলহাজ্ব আহমেদ আলী। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জনির উদ্দীন আহমেদ ও বুলবুল আহমেদ।


অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া। ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য দেয় নুসরাত, আবু উবায়েদ ও হালিমা। আরবি ভাষায় বক্তব্য দেয় মাহবুব হোসেন মারুফ।


এছাড়া শিক্ষার্থীরা আরবি ও বাংলা কবিতা আবৃত্তি এবং ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন হেফজ সম্পন্নকারী ছয়জন কৃতি শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। কুরআনের আলোয় গড়ে ওঠা সেই শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময় অভিভাবক ও অতিথিদের চোখে ছিল গর্ব আর প্রশান্তির ছাপ।


এছাড়া প্রতিটি শ্রেণি ও সেকশনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। শেষে এক প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে— যেন মহিউদ্দীন একাডেমি আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হয়, জ্ঞানের বাতিঘর হয়, আর এখান থেকে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়। নৈতিকতা ও মানবতার আলো ছড়িয়ে দেয় সমাজের প্রতিটি কোণে।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram