আলমডাঙ্গার বাড়াদীতে দু্ইটি নকল জৈব সার–কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

বছরের পর বছর ধরে আলমডাঙ্গার বাড়াদি গ্রামে চলছিল সরকারি অনুমোদনবিহীন নকল জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। নামিদামী কোম্পানির ব্যাগে ভরে প্রতারণার এই ব্যবসা সরাসরি কৃষকের আস্থা ও ফসলের ক্ষতি করছে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্থানীয়রা মনে করছেন—সামান্য জরিমানা দিয়ে এই বড় প্রতারণার সমাধান হবে না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসুর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়। আদালত ঈদ্রিস আলীর ছেলে মো. রকিবুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে সার ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় ৮ হাজার টাকা করে মোট ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযানের সময় দেখা যায়—বাড়াদি মাঝেরপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমোদন ছাড়া সার তৈরি, নামি-দামি কোম্পানির বস্তা ভর্তি ও বাজারজাতকরণের অনিয়ম চলছিল। ফার্মে শ্রমিকরা গোবর শুকিয়ে বস্তায় ভরছেন, নামি কোম্পানির ব্যাগে ভর্তি করে বাজারে পাঠানো হচ্ছে। এটি শুধু আইনের ব্যহত নয়, বরং সরাসরি কৃষকের সাথে প্রতারণা এবং মাটির জৈবগুণ নষ্ট করার বড় অপরাধ।
স্থানীয় লিংকন নামের একজন কৃষক বলেন, “নকল সার দেখে আমরা নামি কোম্পানির ব্যাগ কিনেছিলাম। কিন্তু জমিতে প্রয়োগের পর ফলন কমে গেছে। বুঝতে পারলাম—এটি আসল কোম্পানির সার নয়। বছরে বছর ধরে চলা এই প্রতারণার সামান্য জরিমানা দিয়ে সমাধান হবে না। স্থায়ীভাবে বন্ধ ও অপরাধীদের কারাদণ্ড চাই।”
ফার্মের মালিক মো. রকিবুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি অনুমোদনপত্র বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। স্থানীয় শ্রমিকদের কথায়, ফার্মে আসা সার বিভিন্ন কোম্পানির ব্যাগে ভর্তি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উদয় রহমানসহ উপজেলা ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান—অননুমোদিত সার মাটির জৈবগুণ ধ্বংস করছে, ফসল নষ্ট করছে এবং কৃষকের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধু জরিমানা দিয়ে এই অপরাধকে ছোট দেখার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে প্রতারকচক্র বছরের পর বছর এ অপরাধ করতে থাকবে।
স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তারা এই প্রতারকদের ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ও অপরাধীদের কারাদণ্ডাদেশ দাবি করেছেন।












