শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই: চুয়াডাঙ্গায় শহীদ শুভর মা

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে চুয়াডাঙ্গার প্রথম শহীদ প্রকৌশলী শাহরিয়ার শুভ’র মা চম্পা খাতুন খুশি হলেও, তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেই শহীদ পরিবারগুলো প্রকৃত শান্তি পাবে।
চম্পা খাতুন পলাতক শেখ হাসিনাসহ অন্যদের দ্রুত দেশে এনে রায় কার্যকর করার দাবি জানান। তিনি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টিতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, "পাঁচ বছর খুব কম সময়। যারা আমাদের মতো সন্তানহারা, তারা জানে এই দুঃখ কত বড়। আমার ছেলেকে ফিরে পাব না জানি, কিন্তু অন্তত বিচারটা যেন সম্পূর্ণ দেখি।"
ছেলের ছবি বুকে চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে মা চম্পা খাতুন বলেন, অনেক কষ্ট করে চার সন্তানকে মানুষ করেছিলেন। সংসারে স্বস্তি এসেছিল, ঠিক তখনই শাহরিয়ারের মৃত্যু সবকিছু ভেঙে দিল। প্রায় দেড় বছর হতে চলল, এখনও তিনি সন্তানের শোকে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি পিতৃহারা শিশু মুহিনের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ঢাকার মিরপুরে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন প্রকৌশলী শাহরিয়ার শুভ। চার দিন পর ২৩ জুলাই রাতে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কৃষক পরিবারের সন্তান শুভ ঢাকার একটি লিফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এই মামলার পলাতক আসামি। গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ, রংপুরের আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যাসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলার রায়টি গত ১৭ অক্টোবর কার্যক্রম শুরুর ৩৯৭ দিন পর কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।












