আলমডাঙ্গায় ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় শরীফুজ্জামান শরীফ

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে এক বিশাল মতবিনিময় সভা করেছেন। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি প্রমাণ করে, দল এখন সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভা সঞ্চালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মওলানা ইদ্রিস আলী।
প্রধান অতিথি শরীফুজ্জামান শরীফ তার বক্তব্যে সাংগঠনিক ঐক্যের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী আইন মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমার আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির এবং সহযোগী সংগঠনের সংগ্রামী নেতা-কর্মীরা! এই আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠের এই দৃশ্য প্রমাণ করে, চুয়াডাঙ্গায় ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়ে গেছে। আজ আপনাদের সামনে আমি এসেছি শুধু ভোট চাইতে নয়, এসেছি আমাদের নেতা তারেক রহমানের মুক্তির বার্তা দিতে এবং আপনাদের জীবনে পরিবর্তন আনার শপথ নিতে।’
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন একটি কঠিন পরীক্ষা। তাই আমাদের সবার আগে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলের ভেতরে কোনো ভেদাভেদ নয়, সহিদোচিত উদারতা নিয়ে আমাদের সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে হবে। আমি আপনাদের কঠোরভাবে নির্দেশ দিচ্ছি—আপনাদের উৎসাহ যেন কখনোই নির্বাচনী বিধি-বিধানের বাইরে না যায়। আপনারা প্রতিটি আইন জানুন, প্রতিটি বিধি মানুন। আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে নিয়মতান্ত্রিক পথে, আপনাদের ভোটের শক্তিতে।’
মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আপনাদের সাথে আমার অনেকবার কথা হয়েছে। ইউনিয়ন ইউনিয়নে গিয়ে ঘরোয়া মিটিং হয়েছে। তবে মনোনয়নের পর আপনাদের সাথে এটাই প্রথম সভা। আমরা আজকে ১২হাজারের অধিক নেতাকর্মীদের পরিচয় দিয়েছি। তারা মানুষের কাছে বলতে পারে তাদের পদ পদবী। আজকে প্রত্যেক ইউনিয়নে অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পরিচয় গড়ে উঠেছে। আপনারা জানেন, জাতীয়তাবাদী কৃষকদল জেলাতে কারা ছিলো সেটাই আমরা জানতাম না, কিন্তুু আজ প্রত্যেক ইউনিয়নে মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল, ছাত্রদল, ওলামাদলসহ সকল দলের পরিচয় সকলে বহন করতে পারছেন এবং সকলেই সকলের পরিচয় সম্পর্কে অবগত হচ্ছেন। দল আপনাদের সম্মানিত করেছে আপনাদের নেতৃত্বকে বিকশিত করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, এই আলমডাঙ্গা উপজেলা আমার রাজনীতির আস্থার ঠিকানা। ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃসময়ে যখন আমরা বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি, যখন মামলা হামলায় আমাদের হাজারো নেতাকর্মী জেলখানায় ঐ সময়েও আমরা আলমডাঙ্গায় বড় বড় আয়োজনে দলীয় কর্মসূচী পালন করেছি। হাজার হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল করে আপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন এত নির্যাতন নিপিড়নের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী দল এই আলমডাঙ্গা উপজেলায় কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। আবার আমাদের জেগে উঠতে হবে। আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর মাঠ পরিদর্শন করে দেখেছি এই আলমডাঙ্গা উপজেলায় শুধুমাত্র চারটি ইউনিয় ভাংবাড়িয়া, বাড়াদি, জেহালা, নাগদা এই ইউনিয়ন গুলো ভোটের মাঠে সবার থেকে এগিয়ে নিজ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। বাকি ১১টি ইউনিয়ন কোন কাজ কর্মের ভিতরে নাই। তাদের ব্যাক্তিগত ব্যবসা বানিজ্য, চায়ের দোকানে আড্ডা এবং আনুষাঙ্গিক কাজে ব্যাস্ত তারা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড এখন বন্ধ থাকবে। এখন শুধু নির্বাচন কর্মকাণ্ড শুরু হবে। আপনারা কত শতাংশ লোক রাজনীতি করেন ২% বা ৩% বাকি ৯৭% মানুষের ভোটের ব্যাবস্থা তো আপনাদেরকে করে দিতে হবে৷ এখন ভোটের রাজনীতি করতে হবে। কত মন্ডল মাতুব্বর কত গোষ্ঠির লোকের সমন্বয়ে আপনি ধানের শীষের ভোট আনতে পারবেন এটাই হলো আপনাদের বর্তমান রাজনীতি। কতজন আপনার বিরোধীতা করছে সেই ভোটগুলো আপনাদের দিতে হবে। একটা নেতা কিংবা একটা কর্মী একটা কাজ করুন, যেই ভোটটা আপনার বিপক্ষে আছে, সেই ১টা ভোট নিশ্চিত করে তারপর রাতে আপনি ঘুমাবেন। সেইরাতে ঘুম আর অন্য রাতের ঘুমের ভিতর পার্থক্য আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। বিগতদিনের নির্বাচন গুলোর চাইতে এই নির্বাচন খুব কঠিন হবে৷ তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোটের মাঠে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
এ সময় মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার রূপরেখা হলো আপনাদের মুক্তির সংবিধান। এই রূপরেখা বাস্তবায়ন হলে দেশের কৃষক, শ্রমিক, নারী, ব্যবসায়ী—সবার অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হবে। আপনারা ঘরে ঘরে ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দিন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—আপনাদের এই ত্যাগ কোনো দিন বৃথা যাবে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন, ধানের শীষকে বিজয়ী করুন—আমি আপনাদের সেবা করব।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফুন্নাহার, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মুকুট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মন্টু, চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন লাড্ডু, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝন্টু।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্যজিবি দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাস এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা আনোয়ার হোসেন, আইলহাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বিশ্বাস, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও চিতলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ছালাম বিপ্লব, গাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান রেজু, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মীর উজ্জ্বল হোসেন, কৃষক দলের আহ্বায়ক জামাল সাদিক পিন্টু, মতসজিবি দলের আহ্বায়ক জান মোহাম্মদ, ওলামা দলের সভাপতি মওলানা সাফি, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার কাজী সাচ্চু, কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্তাত চেয়ারম্যান মাহাবুল হক, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসান রিংকু, জেহেলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহেদুজ্জা মিল্টন, কালিদাসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আইনাল হোসেন, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ডাউকি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দার আলী, বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ঝন্টু মালিতা, খাদিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেরেগুল ইসলাম বিশ্বাস, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি টিপু সুলতান, হাড়দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম, আলমডাঙ্গা পৌর ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক, এবং আয়উব হোসেন প্রমুখ। এ সময় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।












