চলে গেলেন চিকিৎসায় আলো জ্বালানো চিকিৎসক ডাক্তার শাফায়েত: আলমডাঙ্গা কাঁদছে

আলমডাঙ্গা যেন এক মুহূর্তে থমকে দাঁড়িয়েছিল—শত হৃদয়ের প্রিয় গরিবের ডাক্তার, আলমডাঙ্গার প্রথম মানবিক চিকিৎসক শাফায়েতুল ইসলামের চিরবিদায়ের সংবাদে। নানা দীর্ঘ ১৮ বছরের রোগশোকের পর শনিবার রাত পোণে ১২ টায় বাবুপাড়ার নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এই মানবিক চিকিৎসক ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। ১৮ বছর পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। প্রাণে বেঁচে গেলেও চিরজীবন চলাফেরার সক্ষমতা হারান। তিনি আলমডাঙ্গার প্রথম এমবিবিএস চিকিৎসক, যিনি গরীবের ডাক্তার নামে অধিক পরিচিত ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা ডাঃ নফিজা আনজুম হিমুকে, রেখে গেছেন অসংখ্য গুণগ্রাহী আর ভালোবাসায় সিক্ত স্মৃতি।
২৬ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে জানাযা শেষে দারুস সালাম কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন শ শ মানুষ—সহকর্মী, সহপাঠী, রাজনীতিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ছাত্র, আর অসংখ্য রোগী যারা তাঁর হাতে পেয়েছিলেন জীবনের আশ্বাস।
ডাঃ শাফায়েতুল্লাহ ২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করেন। কিন্তু অদম্য মনোবলে তিনি চিকিৎসা সেবা ও মানবতার ব্রত ছাড়েননি—হুইলচেয়ারে বসেই রোগীদের পাশে থেকেছেন যতদিন সম্ভব। রোগি দেখার ফি নেওয়া কখনই মূখ্য ছিল না তার কাছে। গরীব দু:খীদের তিনি টাকা ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দিতেন। কখনোই তিনি রোগিদের সাথে রাগারাগি করতেন না। মুখে স্মিত হাসি লেগেই থাকতো। স্বভাবসুলভ হাসিঠাট্টা ছিল সার্বক্ষণিক সঙ্গী। এ কারণেই আলমডাঙ্গাবাসীর কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন “গরিবের ডাক্তার” নামে।
জানাজার আগে শোকাভিভূত কণ্ঠে তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা স্মৃতিচারণ করেন। বক্তব্য রাখেন সহপাঠী মনিরুজ্জামান, ডাঃ আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, ডাঃ হাসানুজ্জামান নুপুর, বিএনপির চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ শরিফুজ্জামান শরিফ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী, চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ সাইদ, এবং আলমডাঙ্গার চিকিৎসা ও সমাজসেবা অঙ্গনের বহু বিশিষ্টজন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ শিক্ষাঙ্গন, ব্যবসায় ও রাজনীতির শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ।
চলে গেলেন এক সময়ের আলমডাঙ্গার সেবক, কিন্তু রেখে গেলেন চিকিৎসা ও মানবতার অমর দৃষ্টান্ত—যা এই মাটির মানুষের হৃদয়ে থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের নিকট দু'আ চেয়েছেন এ












