আলমডাঙ্গায় "আনন্দের সাথে বিজ্ঞান আলোচনা” সেমিনার: বিজ্ঞানের ভীতি নয়, আনন্দে শেখার আহ্বান

“বই পড়ার অভ্যাস উন্নত সংস্কৃতির বাহন”— এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য ও প্রাণবন্ত বিজ্ঞান সেমিনার। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের জিস টাওয়ার মিলনায়তনে স্বয়ম্ভর পাবলিক লাইব্রেরির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী “আনন্দের সাথে বিজ্ঞান আলোচনা” শীর্ষক সেমিনার। এই সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানের ভীতি দূর করে শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে বিজ্ঞান শেখায় উৎসাহিত করা এবং বিজ্ঞানকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বশির আহমেদ। তিনি প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করেন বিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞানের ব্যবহার ও বিজ্ঞানমনস্কতার বিকাশ বিষয়ে।
বক্তব্যে অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, “বিজ্ঞান কোনো মুখস্থ করার বিষয় নয়— এটি জানার, বোঝার ও অনুসন্ধানের বিষয়। আধুনিক পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞানের চেতনা অর্জন ছাড়া কোনো জাতির পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
বিজ্ঞানকে যদি আনন্দের সঙ্গে শেখা যায়, তবে শিক্ষার্থীরা ভয় নয়— ভালোবাসা থেকে শেখার মনোভাব তৈরি করবে।” তিনি আরও বলেন, “খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা কিংবা অস্ত্রে পরাক্রমতা নয়, যে দেশ বিজ্ঞানে অগ্রসর, সেই দেশই সত্যিকার অর্থে উন্নত।” সেমিনারে আলমডাঙ্গা উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এছাড়াও অংশ নেন ১৫ জনেরও বেশি শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— হাটবোয়ালিয়া কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মতিউল হুদা, প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম (আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়), শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান, হাসিনুর ইসলাম, আব্দুল হান্নান, আলমগীর কবির, আফরোজা খুশি, সানজিদা পারভীন, প্রভাষক সাঈদ হিরোন, লায়লা মারজুমান বানু প্রমুখ। সেমিনারে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আলোচনায় অংশ নেয় এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিজ্ঞানের নানা দিক সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, এমন আয়োজন তাদের মধ্যে বিজ্ঞানভীতি দূর করে বিজ্ঞানচেতনা ও কৌতূহল বাড়িয়েছে।
আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন স্বয়ম্ভর পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকার সহসম্পাদক এনামুল হক। তিনি বলেন, “আমরা চাই আলমডাঙ্গার তরুণরা শুধু পাঠ্যবই নয়— বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যাক। স্বয়ম্ভর লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন জ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করবে।”
অতিথি আপ্যায়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে তুষার মুক্ত স্কাউটের সদস্যরা। পুরো সেমিনারটি ছিল এক আনন্দঘন ও উৎসাহব্যঞ্জক আয়োজন, যেখানে বই, বিজ্ঞান ও কৌতূহলের মেলবন্ধন ঘটেছিল এক অনন্য মানবিক আবহে।












