আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে বিএনসিসি প্লাটুন-২৩-র শুভ উদ্বোধন

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) প্লাটুন-২৩-র শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সুন্দরবন রেজিমেন্ট, খুলনার সম্মানিত কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলাম -- বিজিএম, সি এডি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
তিনি বিএনসিসি পতাকা ও সাদা কপোত উড়িয়ে প্লাটুনটির যাত্রা শুরু করেন এবং চৌকস ক্যাডেটদের প্যারেড পরিদর্শন শেষে কলেজ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কর্নেল কামরুল ইসলাম:বলেন— "আজকের দিনটি শুধু একটি প্লাটুন উদ্বোধনের দিন নয়—এটি ভবিষ্যতের দেশনেতা তৈরির এক মাইলফলক। বিএনসিসি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বীজ বপন করে। আজ যারা এই প্লাটুনে অন্তর্ভুক্ত হল, তারা শুধুই শিক্ষার্থী নয়, তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।"
তিনি আরও বলেন—"তোমরা যখন সকালে শারীরিক প্রশিক্ষণ নাও, ইউনিফর্ম পরে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করো, তখন শুধু বাহ্যিক নয়, ভিতরের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। আজকের এই ক্যাডেটরা ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনী, সিভিল সার্ভিস, শিক্ষা কিংবা যেকোনো পেশায় নেতৃত্ব দেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যেও বলেন—"আপনারা গর্ব করতে পারেন, কারণ আপনার সন্তানরা একটি সুশৃঙ্খল, আদর্শবাদী ও দায়িত্ববান প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে উঠছে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মফিজুর রহমান। তিনি বলেন,
"বিএনসিসি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি আমাদের তরুণদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, নেতৃত্ব ও দেশসেবার চেতনায় অনুপ্রাণিত করে। আমরা গর্বিত, আজ থেকে আমাদের কলেজেও এই মহৎ কর্মযজ্ঞ শুরু হলো।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: মনয়েম হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি মহিতুর রহমান, শিক্ষক শেখ শফিউজ্জামান, ড. মাহবুব আলম, আব্দুল হাই, শামিমা নাসরিন প্রমুখ।
নতুন প্লাটুনের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনসিসি’র প্রশিক্ষক সাব্বির আহমেদ এবং সাঈদ এম হিরণ, যাঁরা ক্যাডেটদের নেতৃত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার জন্য অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুন-২৩-র এই উদ্বোধনের মাধ্যমে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এখানকার তরুণেরা আজ থেকে কেবল পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না—তারা শিখবে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, সেবা করতে হয়, এবং দেশকে ভালোবাসে এগিয়ে নিতে হয়।












