৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোয়াকুলিতে পুলিশের অভিযানে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত গ্রেফতার

প্রতিনিধি :
শরিফুল ইসলাম রোকন
আপডেট :
আগস্ট ২৯, ২০২৫
95
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
ছবি : 

আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা সড়কের রোয়াকুলি বদরগঞ্জ এলাকায় গভীর রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচ দুর্ধর্ষ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র, দড়ি, মোবাইল ফোন এবং একই রাতে ছিনতাই হওয়া একটি ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান (পিপিএম)-এর নেতৃত্বে এসআই জামাল হোসেন, এএসআই সোহেল রানা এবং সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। রোয়াকুলি বদরগঞ্জ গ্রামের লোকমানের কাঠাল বাগানের সামনে ডাকাতরা সমবেত হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করে। তবে তাৎক্ষণিক ঘেরাও করে পাঁচ ডাকাতকে আটক করা সম্ভব হয়। ঘটনাস্থল থেকে ছমির উদ্দিন, জহির উদ্দিন সৈকদ্দিন, মুজিবর রহমান, নাজমুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন নামে পাঁচ ডাকাতকে আটক করা হয়। এসময় তাদের সঙ্গী মাসুম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে। প্রত্যেকেই ডাকাতি, অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলার আসামি বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি জেলার বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।

তল্লাশিকালে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি চাপাতি, একটি দা, একটি লোহার রড, একটি লোহার সাবল, একটি ছোরা, রশি, চারটি মোবাইল ফোন এবং ডাকাতি হওয়া ব্যাটারিচালিত একটি পুরনো পাখিভ্যান। তাদের প্রত্যেকের পরনে ছিল হাফপ্যান্ট, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে—তারা আগেই ডাকাতির পরিকল্পনায় প্রস্তুত হয়ে এসেছিল।

পূর্বের রাতে ঘটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ছিনতাই: এদিন রাত ৯টার দিকে চক্রটি চুয়াডাঙ্গা জেলার পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাওট কামারখালী মাঠে একটি ভয়ঙ্কর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। বাওট গ্রামের বৃদ্ধ পাখিভ্যানচালক ইদ্রিস আলী জানান, সন্ধ্যার পর যাত্রী নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় যান তিনি। ফেরার পথে ইটভাটার নিকট ছয়জন যাত্রীবেশী ব্যক্তি তার ভ্যানে ওঠে। বাওট বাজার থেকে তারা কামারখালী বাজারে গান হচ্ছে বলে সেখানে পৌঁছে দিতে বলে। কিছুদূর যাওয়ার পর নির্জন মাঠে পৌঁছলে হঠাৎ তারা ইদ্রিস আলীর চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে, হাত-পা বেঁধে তাকে ফেলে রেখে ভ্যান, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে।

পরদিন বিকেলে ইদ্রিস আলী জানতে পারেন, আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ তার ছিনতাই হওয়া পাখিভ্যান উদ্ধার করেছে এবং পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। তিনি থানায় গিয়ে নিশ্চিত করেন—গ্রেফতারকৃতরাই তার ওপর হামলা চালিয়ে ভ্যানটি নিয়ে গিয়েছিল।

পুলিশের তৎপরতা ও পেশাদারিত্বে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে।

স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপ না হলে ডাকাতির বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান (পিপিএম) যে দক্ষতা ও বিচক্ষণতা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। শুধু গ্রেফতারই নয়, একই রাতে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ভ্যান উদ্ধারে পুলিশের সক্রিয়তা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে এনেছে।

আলমডাঙ্গা থানার এক কর্মকর্তা জানান, “ডাকাতরা একাধিকবার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির চেষ্টা করে আসছিল। এই চক্রটি খুবই পেশাদার এবং সংঘবদ্ধ। তাদের গ্রেফতারের ফলে বড় ধরনের অপরাধ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বাকি পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর এলাকাবাসী পুলিশের এমন সফল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ  জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram