নোটিশের ১৫ দিন পরও উচ্ছেদ হয়নি ডাউকি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের খেলার মাঠ

আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ঘর এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি। যদিও গত ১৫ জুলাই বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান রেজা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে বিদ্যালয়ের মাঠ দখলের অভিযোগ তুলে শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় জাহাঙ্গীর, আতিয়ার রহমান, জুর আলীসহ ৮-৯ জন ব্যক্তি বিদ্যালয় মাঠে দোকান নির্মাণ করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি মাঠ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে দখলদারদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে ১৫ জুলাই ২০২৫ তারিখে লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে নোটিশ জারির ১৫ দিন অতিক্রম হলেও এখনো অবৈধ দখলদারদের সরানো হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে মাঠটি দখলমুক্ত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না, এবং বিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের মাঠ কেবল জমি নয়, এটি একটি প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্র। দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাঠটি শিক্ষার্থীদের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ এক সময় ছিল গ্রামের প্রাণ। এখন সেখানে শুধু দখলদারত্বের স্থাপনা। ছেলেমেয়েরা খেলার জায়গা পায় না। এটা খুবই কষ্টের।”
বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক হাসিবুল হক বলেন, “ শিশুরা এখন ঘরের ভেতরই সময় কাটায়। মাঠে খেলার পরিবেশ নেই। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে যাব।”
একজন প্রাক্তন ছাত্র মিনারুল ইসলাম বলেন, “এই মাঠে আমরাও খেলেছি, বড় হয়েছি। এখনকার প্রজন্ম মাঠ বঞ্চিত হলে তাদের মন-মানসিকতায় প্রভাব পড়বে। এটা শুধু বিদ্যালয়ের সমস্যা নয়—এটা একটা প্রজন্মের ক্ষতি।”
এলাকাবাসী মনে করছেন, শুধু নোটিশ দিলেই চলবে না—প্রয়োজনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত উচ্ছেদ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই অব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করবে।












