মোবাইল চুরির অপবাদে কিশোরকে নির্যাতন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মোবাইল চুরির অপবাদে এক কিশোরের হাত পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৩ বছর বয়সি নির্যাতিত ইয়াকুব ওই উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মেরাসানী গ্রামের মৃত মজলু ভূইয়ার ছেলে। এ ঘটনায় থানা পুলিশ সোমবার সকালে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মেরাসানী গ্রাম বাবুল মিয়া, মান্নান এবং শাহীন ওরফে মান্নাকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃতদের বাড়ি পশ্চিম মেরাসানী গ্রামে।
গত রবিবার কিশোরের নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মিলে কিশোরটির হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন করছে। এ সময় সে চিৎকার করলেও থেমে থাকেনি নির্যাতন। কিশোরের পরিবারের লোকজন জানায়, ইয়াকুবের বাবা না থাকায় সে পশ্চিম মেরাসানী গ্রামে তার নানার বাড়িতে থাকে। গত চারদিন আগে মেরাসানী গ্রামের রুবেলের বোন জামাইয়ের বাড়িতে মোবাইল চুরি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার সন্দেহজনক ভাবে কিশোর ইয়াকুবকে কৌশলে ডেকে রুবেলের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল চুরির অপবাদে বাবু, মান্না, রুবেলসহ কয়েকজন মিলে হাত-পা বেঁধে মারধর করতে থাকে। পরে কিশোরটির কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন তার পরিবারকে খবর দিলে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় রবিবার রাতে বিজয়নগর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন ইয়াকুবের নানী আরিজা বেগম।
নির্যাতনে শিকার কিশোর ইয়াকুব বলেন, আমাকে চেয়ারের সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেছে। সে সাথে কারেন্টের শকও দেয়া হয়েছে। পরে আমাকে পরিবারের লোকজন এসে উদ্ধার করে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, শিশু নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে দেখছে। ফেসবুকে ভিডিও দেখার পরই পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানে নামে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশাকরি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।