সাম্প্রতিক

প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে হত্যায় মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রতিনিধি: মুঠোফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কিশোরগঞ্জের দুই কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় করা মামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৭ ফেব্রুয়ারী রোববার কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক কিরণ শংকর হালদার এ রায় দেন।

রায়ে পুলিশ সদস্য মনিরুজ্জামান ওরফে হলুদকে (৪০) মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া বন বিভাগের সাবেক কর্মচারী শামীম হালদার ওরফে জহিরকে (৪৮) মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই দুই আসামিই জামিন নিয়ে পলাতক আছেন। মনিরুজ্জামানের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হাট ব্যারেঙ্গা এলাকায় এবং শামীমের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায়।


চার বছর করে দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দিলবর হোসেন, মোস্তফা মীর, আবুল হোসেন, বাবুল মিয়া, জয়নাল আবেদীন ও কবির হোসেন। তাঁদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় মোস্তফা কামাল, দিলবর হোসেন ও জয়নাল আবেদীন কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা এখনো পলাতক।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী আফরোজা আক্তার সুমির সঙ্গে চট্টগ্রামের বন বিভাগের কর্মচারী শামীম হালদারের মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আর সুমির বান্ধবী একই কলেজের ছাত্রী আফরোজা আক্তার উর্মির সঙ্গে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মনিরুজ্জামানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ২০০৮ সালের ১৬ জুলাই সকাল নয়টার দিকে মুঠোফোনে ডেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরের রথখলা এলাকা থেকে দুই বান্ধবীকে মনিরুজ্জামান ও শামীম অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যান। ওই দিনই ধর্ষণের পর দুই বান্ধবীকে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান ও শামীম। পরে হোটেলের ছয় কর্মচারী উর্মিকে কারওয়ানবাজার এলাকার ঝিলে এবং সুমিকে তেজগাঁও রেলস্টেশন এলাকায় ডাস্টবিনে ফেলে যান। পরবর্তীতে লাশের পরিচয় উদ্‌ঘাটনের পর সুমির বাবা আবু বকর বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতদের আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে মুঠোফোনের সূত্র ধরে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল আটজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায়ে বাদী আবু বকর সন্তোষ জানিয়ে পলাতক দুই আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানান। বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ কৌঁসুলি এম এ আফজাল ও আইনজীবী অশোক সরকার। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুল হক খান।