সাম্প্রতিক

স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নিল নৌকার সমর্থকরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ বোরহান উদ্দিনের মনোনয়ন ফরম ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কাশেম ভূঁইয়ার সমর্থকরা। সোমবার দুপুর একটায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোয়ন ফরম জমা দিতে গেলে উপজেলার প্রশাসনিক ভবন থেকে তার মনোনয়ন ফরম ছিনিয়ে নেয়া হয়। ফলে তার নির্বাচনে অংশ নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বোরহান উদ্দিন আখাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বোরহান উদ্দিন জানান,‘সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। সকালে স্থানীয়রা আমার বাড়িতে আসে। আমি অসুস্থ্য থাকার কারণে নিজে না গিয়ে আমার পক্ষে মোগড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হামিদ মোল্লাকে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার জন্য পাঠাই। সেখানে আমার মনোনয়ন ফরম ছিনতাই করে নিয়ে যায় সরকার দলীয় লোকেরা।’

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা হামিদ মোল্লা জানান,‘আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী বোরহান উদ্দিনের নাতি শেখ সাদীকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাই। উপজেলায় গিয়ে নির্বাচন অফিসারের রুমে লোক সমাগম দেখে শেখ সাদীকে নিয়ে ইউএনও’র অফিসের পাশের রুমে অপেক্ষা করি। এরমধ্যে আমি পাশের টয়লেটে গিয়ে ফিরে এসে দেখি সাদীকে কয়েকজন যুবক মারধর করে মনোনয়নপত্র ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। আমরা তাৎক্ষণিক ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি মনোনয়নপত্রটি উদ্ধারের আশ্বাস দেন।’

চেয়ারম্যান প্রার্থী বোরহান উদ্দিনের নাতি শেখ সাদী জানান, আমাকে বসিয়ে রেখে মুক্তিযোদ্ধা হামিদ মোল্লা টয়লেটে গেলে আখাউড়া পৌর মেয়রের চাচাতো ভাই শ্রমিকলীগ নেতা ইবনে মাসুদ লাকসু ও যুবলীগ নেতা জাহিদের নেতৃত্বে ১০/১২ জন আমার ওপর হামলা করে। এসময় আমার কাছে থাকা শেখ বোরহান উদ্দিনের মনোনয়নপত্রটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শামছুজ্জামান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। ইতোমধ্যে পুলিশ মনোনয়ন ফরমটি উদ্ধার করার জন্য কাজ শুরু করেছে। তবে আমি দেখিনি তারা ফরম নিয়ে এসেছিলেন কিনা।

আখাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফ আমিন জানান, মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার মনোনয়নপত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।