সাম্প্রতিক

সারা ফেলেছে অ্যাম্বুলেন্স ‘সেবা বাহন’

image-48458-1479477903প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও সেখানেই নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স। জরুরি প্রয়োজনে মাইক্রোবাস অথবা ভ্যান গাড়িই একমাত্র ভরসা। এতে করে মুমূর্ষু রোগীদের প্রায় জীবন হারাতে হতো। আর এজন্য এবার উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ‘সেবা বাহন’ নামের থ্রি হুইলার ব্যাটারিচালিত ৯টি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়েছে। এটিই এখন গ্রামগঞ্জে অসুস্থ মানুষের কাছে হাসপাতালে যাওয়ার একমাত্র ভরসা। অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ৯টি সেবা বাহন প্রদান করা হয়েছে। সেবা বাহনের মধ্যদিয়ে তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। যে কেউ নাম মূল্যে ভাড়া দিয়ে সেবা বাহনের মাধ্যমে রোগী বহন করতে পারছে। গত ২ অক্টোবর বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শাজাহানপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে ‘সেবা পরিবহন’ নামের এই অ্যাম্বুলেন্স বিতরণ করেন। দেড় মাসে উপজেলার ৪শতাধিক মানুষ এসব পরিবহনে চেপে হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এলাকায় সেবা বাহনটি বেশ সারা ফেলেছে। আগে যেখানে মূল শহর থেকে মাইক্রোবাস বা ভ্যান ভাড়া করে রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসতে হতো; এখন থেকে মোবাইল ফোনে কল দিয়েই রোগী বাহন অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের রোগীরা হাসপাতালে আসছে।   বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের আজমল হোসেন জানান, আগে রোগী নিয়ে যাবার জন্য ভ্যানই ভরসা ছিল। এখন ব্যাটারিচালিত বাহন পাওয়া গেল। হাসপাতালে রোগী পরিবহনে এটা খুব সহজ। ভাড়াও কম।   শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার মানুষের এতোই বেশি ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাফিউল ইসলামের উদ্যোগে এলজিএসপি-২ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ‘সেবা বাহন’ সরবরাহ করায় রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে গ্রামের দু:খি মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ১-২ জন করে অসুস্থ মানুষ ‘সেবা বাহন’ এ চেপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কিংবা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন। সেবা পরিবহনের মাধ্যমে একজন রোগী দুরত্বের উপর নির্ভর করে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু সচরাচর পরিবহনে যেতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা গুণতে হতো। শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, নতুন উপজেলা হওয়ায় শাজাহানপুরবাসী নানা রকম সমস্যার মোকাবেলা করছেন। ‘সেবা বাহন’র ব্যবস্থা করে অন্তত একটি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল জানিয়েছেন, প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছা থাকলে সীমিত সামর্থ দিয়েও দৈনন্দিন সমস্যাগুলো মোকাবেলা করা যায়। ‘সেবা বাহন’ তারই একটি দৃষ্টান্ত। গ্রামের মানুষের সেবা দিতে এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে সেবা বাহনটি ব্যবহার করা হবে। বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, গ্রামের অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে ‘সেবা বাহন’ একটি নতুন কনসেপ্ট। এটি স্বল্প খরচে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বগুড়ার অন্যান্য উপজেলায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।