সাম্প্রতিক

সাতক্ষীরা ২ আসনে নৌকার প্রার্থী বদল হচ্ছে!

সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী বদল হচ্ছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বলে বর্তমান সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তা নিয়েও খোদ ভোটারদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ কোনো জাতীয় গণমাধ্যমে সাতক্ষীরা ২ আসনে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে এমন খবর প্রকাশ হয়নি। সারাদেশে ২৩০ টি আসনে নৌকার প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও সেখানে তার নাম কোথাও দেখা যায়নি। কিন্তু কিভাবে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম পেয়ে গেছেন তা নিয়ে সাতক্ষীরা সদর জুড়ে চলছে নানামূখী গুঞ্জন।

এছাড়া তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে বিছিন্ন ও নানা কারণে বিতর্কিত এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হলে জামায়াত অধ্যুষিত আসনটি হারাতে পারে বলেও মনে করেন সাতক্ষীরা সদর আসনের সাধারণ ভোটাররা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মাত্র ৩২ হাজার ভোট পেয়েছিলেন এই মোস্তাক আহমেদ রবি। সেদিক বিবেচনায় তিনি ভোটে দাঁড়ালে নির্বাচনের ফলাফল নেতিবাচক হতে পারে বলেও মনে করেন অনেকে।

সারা দেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩০টি আসনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরার ৪টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩টি ও শরীক দল ওয়ার্কার্স পাটির ১টিতে মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা পেয়েছেন মনোনয়ন। এতে করে সাতক্ষীরা-১ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৩ আসনে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে এসএম জগলুল হায়দার মনোনয়ন পেয়েছেন বলে খবর প্রচারিত হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর মহাজোটগতভাবে মনোনয়ন ঘোষণা হতে পারে। ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর। তফসিল অনুযায়ী কে হচ্ছেন মহাজোটের প্রার্থী তা জানতে হলে ৯ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপরও জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হচ্ছে কে হচ্ছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী? সাধারণ মানুষের এমন প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রচার মাধ্যমগুলোতে সাতক্ষীরা-২ আসনের কোনো প্রার্থীর নাম নেই। তাহলে কী এ আসনটিতে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি? নাকি চমক হিসেবে জাতীয় পার্টির জন্য রাখা হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করেছেন সাংবাদিকদের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। তবে সাংবাদিকদের কাছেও এসব প্রশ্নের কোন উত্তর না থাকায় রীতিমত সাধারণ মানুষের মধ্যেও একধরণের বিস্ময় থেকেই গেছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিশেষ করে জাতীয়পার্টির সমর্থকদের মধ্যে এখনো আশা জেগে আছে। জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীদের দাবি ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়পার্টির এমএ জব্বার বিপুল ভোটে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একেবারে শেষ মূহূর্তে এসে জাতীয়পার্টির প্রার্থী এমএ জব্বার কেন্দ্রের নির্দেশে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৫৪৯ ভোটের মধ্যে ৩২ হাজার ৮৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল করিম সাবু পেয়েছিলেন ১৫ হাজার ৭৮৯ ভোট। যদিও তারা দুজনই আওয়ামী লীগের লোক। এবারের নির্বাচনে সাধারণের জনগণের হিসেবে হচ্ছে ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের দুজন মিলে এ আসনে যে পরিমান ভোট পেয়েছিলেন সেটিই মূলত নৌকার ভোট। এবারের নির্বাচনী হিসেব সম্পূর্ণ আলাদা। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বানে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির এমএ জব্বার ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ২৪৮ ভোটের মধ্যে এক লক্ষ ৩৩ হাজার ৪২২ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই হিসেবে সাতক্ষীরা-২ আসন জাতীয়পার্টির ভোট ব্যাংক। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি এ আসনে জাতীয়পার্টি ছাড়া জয়লাভ করা দু:সাধ্য হবে। কেননা এ আসনটি জামাত-বিএনপির ঘাঁটি। তাছাড়া জামাত-বিএনপির প্রার্থীও বেশ শক্ত। সেকারণে এ আসন মহাজোটের ধরে রাখতে হলে জাতীয়পাটিই শেষ ভরসা বলে মনে করে দলটির সমর্থকরা। একারণে তারা আশা ছাড়ছেন না। তারা তাকিয়ে আছেন মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

x

Check Also

খুলনায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে গণধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

খুলনায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর বাবা ইলিয়াস আলীসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ ...