সাম্প্রতিক

সহকর্মীদের ফাঁসির রায়ে সাঈদী…

  জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের খবর শুনে অঝরে কেঁদেছিলেন দলের নায়েবে আমির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।

সম্প্রতি তাঁর আরেক সহকর্মী মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হওয়ার পর  আবারও মুষড়ে পড়েছেন সাঈদী। এক এক করে দলের নেতাদেরকে ফাঁসির মুখে দেখার বিষয়টিকে তিনি মোটেও মেনে নিতে পা্রছেন না।
এছাড়া তাঁর আরও কয়েকজন সহকর্মীর ফাঁসির রায় হয়েছে।নিজে আপিল বিভাগের রায়ে ফাঁসি থেকে রক্ষা পেলেও সহকর্মীদের ভাগ্যে কী আছে সে ভাবনায় তিনি চিন্তিত।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীরও ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই সময়ে তিনি বলেছিলেন জীবন-মৃত্যুর ফয়সালা হয় আসমানে, জমিনে নয়। পরে আপিল বিভাগ তার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর পার্ট-২ এর কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
আদালতে সাজা হওয়ার কারণে তার ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সাধারণ কয়েদির জীবনযাপন করেন।
কারাগার সূত্র জানায়, কাশিমপুর কারাগারে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে অসুস্থতার কারণে তেমন কোনো কাজ করতে হয় না। ফজরের আজানের আগেই তিনি ঘুম থেকে ওঠেন। নিয়মিতই তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেন তিনি। এরপর কিছুক্ষণ দোয়া-দুরুদ পড়েন। ফজরের নামাজ আদায়ের পর কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় বই-পুস্তক পড়েন। বন্দী ও কারারক্ষীদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
কারা সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী কামারুজ্জামানের মৃত্যুর পরোয়ানা কারাগারে যাওয়ার খবর টেলিভিশনে প্রথম শুনেন সাঈদী। এই খবরে তাঁর মন খারাপ হয়ে যায়। এরপর থেকে অজানা এক চিন্তা তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।মানসিকভাবে তিনি অনেকটা ভেঙে পড়েন। একারণে তার প্রেসারও কিছুটা বেড়ে গেছে। কারাগারের ডাক্তাররা প্রায়ই তাঁর প্রেসার চেক করেন।
মাসে দুইবার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান। কারাগারে দেখতে আসা স্বজনরা তাঁর জন্য প্রিজন ক্যান্টিনে কিছু টাকা দিয়ে যান। ওই টাকা দিয়েই তিনি পছন্দমত খাবার কিনে খান।
সাঈদী কেমন আছেন জানতে চাইলে কাশিমপুর পার্ট-২ এর জেলার মো. ফরিদুর রহমান রুবেল বলেন, এই বয়সে এক বৃদ্ধ মানুষ আর কেমন থাকবেন। শরীরের নানা ধরনের রোগ-শোক তো আছেই। এরপর সহকর্মীদের চলে যাওয়ার খবরে তার মনের উপরে চাপ পড়েছে। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তার দিন কাটে।