সাম্প্রতিক

সরকারি বাসভবন এখনও ছাড়েননি সাবেক ৮ মন্ত্রী

দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন তারা মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু তৃতীয় দফায় ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করলে তারা মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়েছেন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়মানুযায়ী, মন্ত্রীদের জন্য বাড়ি বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী যদি একজন মন্ত্রী দায়িত্ব ছেড়ে দেন তাহলে তিনমাস পর্যন্ত তিনি ঐ বাড়ি রাখতে পারেন। তিনমাসের মধ্যে তাকে বাড়িটা ছেড়ে দিতে হয়। 

সেই হিসেবে ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে, যেসব মন্ত্রীরা বাদ পড়েছিলেন তাদের জন্য গতকাল ৭ এপ্রিল ছিল বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার শেষদিন। কিন্তু ৮ জন মন্ত্রী এখন পর্যন্ত সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। যে কারণে আজ থেকে তারা অবৈধ দখলদারে পরিণত হয়েছেন।

তবে এসব মন্ত্রীরা বলেছেন তারা খুব শিগগিরই বাসভবন ছেড়ে দেবেন। অবশ্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তারা বলেছেন যে মন্ত্রীরা দেশের আইন, নীতি প্রণেতা; তারা যদি আইন না মানেন তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয় আছে।

যেসব মন্ত্রী এখন পর্যন্ত বাসভবন ছাড়েননি তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি ছায়াবীথি ২ ‘তন্ময়’, হেয়ার রোডে থাকতেন। সেই বাসা তিনি এখনো ছাড়েননি। মন্ত্রীর পারিবারিক সূত্র থেকে জানানো হয়েছে তিনি খুব শিগগিরই বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ৫নং মিন্টু রোডে থাকতেন। তিনিও এখনো তার বাসা ছাড়েননি। সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ছায়াবীথি ৬ ‘নিলয়’, হেয়ার রোডে থাকতেন, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ২০ পার্ক রোডে থাকতেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান থাকতেন ৩৫ মিন্টু রোডে, বেসরকারি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামালও ৫ মিন্টু রোডে, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট ১নং ভবনের ২য় তলায় এবং ঐ একই অ্যাপার্টমেন্টের ৪র্থ তলায় বাস করছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার। এদের কেউই এখনো বাসভবন ছেড়ে যাননি।

যদিও মনে করা হচ্ছে যে তিনমাস সময় অতিবাহিত হলেও তারা হয়তো দুই-চারদিনের মধ্যে বাসা ছেড়ে দেবেন। কিন্তু যারা দেশের নীতি নির্ধারক ছিলেন, যারা দেশ পরিচালনা করতেন- তারা যখন আইন লঙ্ঘন করেন তখন সাধারণ মানুষকে আইনে বাধ্য করা কতোটা যৌক্তিক সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।