সাম্প্রতিক

শ্বাশুড়ি হন্তারক ঘাতক সি আইডি কনস্টেবল অসীমের মাদক ব্যবসার সহযোগি ২ মাদক ব্যবসায়ি আটক

শ্বাশুড়ি হন্তারক ঘাতক সি আইডি কনস্টেবল অসীম ভট্রাচার্যকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও ৪৫ বোতল ফেনসিডিলসহ তার মাদক ব্যবসার সহযোগি ২ মাদকব্যবসায়িকে আটক করেছে পুলিশ। ঘাতক কনস্টেবল অসীমের সাথে মাদকব্যবসায় জড়িত ছিল আলমডাঙ্গায় এমন বেশ কিছু যুবকের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে পুলিশের। তাদের অনেককেই থানায় ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও তাদের গতিবিধির উপর তীব্রসতর্ক দৃষ্টি রেখেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ১০ জুন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের কাঁচাবাজার থেকে ৪৫ বোতল ফেনসিডিলসহ বক্সীপুরের সামসুল হকের ছেলে রাসেল পারভেজ ও দামুঢ়হুদা উপজেলার ছয়ঘরিয়ার শরিয়ত উল্লাহর ছেলে খোরশেদ আলমকে আটক করেছে। রাসেল পারভেজের সাথে ঘাতক অসীমের মাদকব্যবসার বিষয়ে পূর্বেই পুলিশের নিকট তথ্য ছিল। ফলে তার প্রতি পুলিশের সতর্ক দৃষ্টি ছিল।

আলমডাঙ্গা শহরে ঘাতক অসীমের বিভিন্ন যুবকের সাথে বাড়াবাড়ি রকমের সম্পর্কের কথাও এখন বেশ চাওর হচ্ছে।
এ ঘটনার পর ঘাতক অসীমের মাদকব্যবসার কথা শহরে বেশ জোরেসোরে আলোচিত হচ্ছে। মাদকব্যবসার সাথে জড়িত থাকার সুবাদে আলমডাঙ্গার সীমান্তবর্তি দর্শনা এলাকা ও গাংনীর উপজেলার চিহ্নিত কিছু ব্যক্তির সাথে তার সখ্যতা রয়েছে বলেও অনেকে দাবি করছেন।
এ জঘন্য হত্যাকান্ডের ঘটনা জানাজানির পর ঘাতক সি আইডি কনস্টেবল অসীমের মাদকদ্রব্য ব্যবসার নানা কাহিনি সবচে বেশি আলোচিত হচ্ছে। আলমডাঙ্গা শহরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ি যুবক, আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার কয়েকজন যুবক, রথতলার ২ যুবক, এক ফলব্যবসায়ি, বক্সীপুরের এক যুবকের সাথে তার মাদকব্যবসার নানাকাহিনি বেশ আলোচিত হচ্ছে। ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত ঘাতকের স্ত্রী ফাল্গুনী রাণী অধিকারীর কাকাতো এক দাদাও ঘাতক অসীমের মাদকব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা উঠে আসছে। । কলেজপাড়ার এক যুবকের মাধ্যমে অসীম ফেনসিডিল সকল ব্যবসায়ির নিকট পৌঁছে দিত বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অবশ্য এদের অধিকাংশকেই গত শনিবার রাতে পুলিশ আলমডাঙ্গা থানায় ডেকে নিয়ে প্রথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে শর্ত সাপেক্ষে ছেড়ে দিয়েছেন। এদের সাথে ঘাতক অসীমের বিভিন্ন সময় মোবাইলফোনে যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে থানা পুলিশসূত্রে জানা গেছে।
খোঁজ নিতে গিয়ে ঘাতক অসীম ভট্রাচার্যের মাদকব্যবসার এক মজার বৈশিষ্টের কথা জানা গেছে। অসীম যাদের সাথে মাদকব্যবসা করত তাদের নিকট থেকে সিকিউরিটি বাবদ অগ্রীম জামানত নিয়েছে। কেউ শ্বশুরের নিকট থেকে টাকা নিয়ে জামানত দিয়েছে, আবার কেউবা পারিবারিক ব্যবসা ধ্বংস করে।
এদিকে, উপর্যূপরি ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে শ্বাশুড়িকে হত্যাকারি সিআইডি কনস্টেবল অসীম ভট্রাচার্যকে এখন গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ প্রশাসন প্রযুক্তি ব্যবহারসহ বহুমুখি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। আলমডাঙ্গা ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার রাতে সঙ্ঘটিত জঘন্য হত্যাকান্ডের পর থেকে ঘাতক সি আইডি কনস্টেবল অসীম ভট্রাচার্য পলাতক। তার ফেসবুক ডি-অ্যাক্টিভেট করা হয়েছে। মোবাইলফোনসেটের দুটি সিমই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মুন্সি আসাদুজ্জামান বলেন, এ হত্যার ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। বেশ সাবধানতার সাথে তদন্ত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হচ্ছে। ঘাতককে গ্রেফতার করতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।