সাম্প্রতিক

শেবাচিমের ডাস্টবিনে ৩৩ শিশুর লাশ: বরখাস্ত হচ্ছেন দুই চিকিৎসক

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে অপরিণত বয়সের ৩৩ শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. খুরশীদ জাহান বেগম এবং ওয়ার্ডের নার্স ইনচার্জ জোৎসা আক্তার।

সোমবার রাতে হাসপাতালের প‌রিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন জানান, তাদেরকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণাল‌য়ে আবেদন করা হ‌বে।

তিনি বলেন, রাতেই সুপারিশের কাগজ তৈরি করা হয়েছে, মঙ্গলবার সকা‌লে তা‌দের‌কে সাময়িক বরখাস্তের জন্য মন্ত্রণাল‌য়ে আবেদন জানা‌নো হ‌বে।

বাকির হোসেন জানান, এর পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। যেখানে একজন অধ্যাপক সমমর্যাদার কর্মকর্তা প্রধান হিসেবে থাকবেন। মঙ্গলবার সকালে ওই কমিটিরও অনুমোদন দেয়া হবে। কমিটির তদন্তে যারাই দোষী প্রমাণিত হবেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিধিঅনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, হাসপাতালের ৫০ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম এবং লজ্জাজনক ঘটনা। এর দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই, তবে গাইনি বিভাগের প্রধান কিংবা রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার বা নার্স ইনচার্জও যদি বিষয়টি আমাদের জানাতেন তবে এমনটা হতো না।

এর আগে, সোমবার রাত ৯টার দিকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোদাছ্ছের আলী জানান, রাতে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা পরিচ্ছন্নকারীরা খবর দিলে ডাস্টবিনে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও কিছু জানা যায়নি।

সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মী রিয়াজুল ইসলাম জানান, ময়লা পরিষ্কার করতে এসে এখানে অনেক ভ্রূণ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি হাসপাতালের লোকজনকে জানালে তারা এখানে এসে মাটি খুঁড়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, এই ভ্রূণগুলো ২৫-৩০ বছর আগের। এগুলো শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ছিল। এগুলো আর গবেষণার উপযুক্ত না থাকায় তা ডাস্টবিনে ফেলা হয়েছে। যেটা উচিত না। এর দায়ভার আমিও এড়াতে পারি না।

তিনি বলেন, এই বিষয়টিতে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান খুরশীদ জাহান বেগম পুরোপুরি দায়ী। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলাম জানান, এখানে এসে ভ্রূণগুলো ডাস্টবিনে দেখতে পাই। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।