সাম্প্রতিক

রাজাকারদের নিয়ে ঘুমন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, শহীদ ২৮

১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে মাগুরার একদল মুক্তিযোদ্ধা অভিযান শেষে পার্শ্ববর্তী সীমান্তঘেঁষা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কামান্না গ্রামে রাত যাপনের জন্য যান। সেখানে মাধব কুন্ডু নামে এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে অবস্থান নেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের এ খবর স্থানীয় রাজাকাররা শৈলকুপা ও মাগুরায় পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়। খবর পেয়ে রাজাকার আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় শৈলকুপা ও মাগুরা থেকে আসা পাকিস্তানি সেনারা ২৬ নভেম্বর ভোর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অতর্কিতে গুলি বর্ষণ শুরু করে।

হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় শহীদ হয়েছিলেন ২৮ জন মুক্তিযোদ্ধা। যাদের মধ্যে ২৭ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে।

এ সময় এসব মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। যে কারণে অতর্কিত হামলায় তারা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে একই সাথে ২৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পাক সেনারা চলে গেলে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা এলাকাবাসীর সহায়তায় কামান্না স্কুল মাঠের পাশে নদীর তীরে ৫টি গণকবরে এ বীর শহীদদের সমাহিত করেন।

কামান্নায় বীর শহীদরা হচ্ছেন- আলমগীর হোসনে, আলী হোসনে, কাদরে, মোমনি, সলমোন, ওয়াহদে, আজজি, আকবর, রয়িাদ, শরীফুল, আলউিজ্জামান, মনিরুজ্জামান, মাছমি, রাজ্জাক, শহদিুল, আব্দুর রাজ্জাক, কাওছার, সালকে, সলেমি, মতলবে, হোসনে আলী, খন্দকার রাশদে, গোলজার, তাজুল ইসলাম, আনসিুর রহমান, অধীর ও গৌর চন্দ্র রায়।

মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোল্যা নবুয়ত আলী মোল্যা জানান- কামান্নায় বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ২৬ নভেম্বর মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে শোকর‌্যালি ও দোয়া মহাফিলের আয়োজন করা হয়। এ বছরও শহীদদের স্মরণে রয়েছে শোকর‌্যালি ও দোয়া মহাফিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না