সাম্প্রতিক

মইনুদ্দীন আর ফখরুদ্দীনের পরিণতি সবাই দেখেছে…

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালদাকে টার্গেট করে বলেছেন, এভাবে অবরোধ-হরতাল চালিয়ে অসাংবিধানিক কোনো শক্তিকে ক্ষমতায় আনা এখন আর যাবে না।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন করে ক্যাপিটাল পানিশমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের আশায় বসে আছেন, তারাও জানে এভাবে ক্ষমতায় এলে তার পরিণতি কী হয়। জিয়া, এরশাদ, মইনুদ্দীন আর ফখরুদ্দীনের পরিণতি সবাই দেখেছে। ওই আগুনে কেউ পা দিতে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
নাম প্রকাশ না করে খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে বসে আছেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। মনে করছেন, ওখান থেকে কেউ এসে ওনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।
ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় সেনা হস্তক্ষেপের ইতিহাস এবং সে পথ বন্ধ করতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের কথা উল্লেখ করেন।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল দেড় মাস ধরে অবরোধ-হরতাল চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে রোববার রাজধানীতে এক সভায় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের সাড়া না পেয়ে বিদেশিদের দিকেও তাকিয়ে আছেন।
বিজেপি নেতার কথা বলে ধোঁকাবাজি করেছে। দেশ ছেড়ে পরদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতার অবসানে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে নাগরিক সমাজের যারা সরকারকে আহ্বান জানিয়ে আসছেন, তাদেরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওনারাও বসে আছেন, কিছু একটা টুপ করে পড়বে, আর পতাকা-টতাকা পাবেন।”
চলমান পরিস্থিতির অবসানে উদ্যোগী হয়ে  উদ্বিগ্ন নাগরিকদের’ পক্ষ থেকে ১৩ জনের কমিটি গঠনের প্রসঙ্গ ধরে কারও নাম উল্লেখ না করে তাদের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকতে কত তদবির.. কেবিনেট সেক্রেটারি হবে। তারপর, করেও দিলাম। এখন চাকরি যাওয়ার পর সুশীল হয়ে গেছেন। আমাদের সবক দিচ্ছেন।
“একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। গার্মেন্টস নিয়ে কত কথা বলেন। এখন, ১৩ জনের সদস্য হয়ে গেছেন।”
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা নেতৃত্বাধীন ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক’দের এই কমিটিতে সাবেক উপদেষ্টা এস এম শাহজাহান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, আকবর আলি খান, রাশেদা কে চৌধুরী, রোকেয়া আফজাল রহমান, এম হাফিজ উদ্দিন খান ও সিএম শফি সামি, আইনজীবী শাহদীন মালিক, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের নাম ঘোষণা করা হয়।
তবে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি পারভেজ এই কমিটিতে থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের হরতাল-অবরোধে নাশকতার ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শুরু করেছিল, এবার শুরু করেছে খালেদা বাহিনী। উনি (খালেদা জিয়া) ভেবেছেন, ২/১টি বোমা মারলে সরকার পড়ে যাবে..।