সাম্প্রতিক

পেট্রলবোমার জায়গায় ককটেল

 হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে নাশকতার ধরন পাল্টেছে।বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ-হরতাল শুরু হওয়ার সারাদেশে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা বাড়তে থাকে।সেই সাথে সারাদেশের হাসপাতালগুলোর বার্নইউনিটগুলোতে বাড়তে থাকে অগ্নিদগ্ধদের আহাজারি। এ নিয়ে গণমাধ্যমগুলোও সরব হয়ে উঠে।
দেশি-বিদেশি তীব্র সমালোচনার মুখে চাপে পড়ে আন্দোলনকারীরা এই ভয়াবহতা থেকে সরে আসে।সর্বশেষ গত কয়েকদিন ধরে পেট্রলবোমার জায়গা দখল করেছে ককটেল।
প্রতিদিনেই ককটেলের স্প্লিন্টারে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। পেট্রলবোমা তৈরির কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতা এবং নাশকতার ধরন পাল্টানোর জন্য দুর্বৃত্তরা এমন পন্থা বেছে নিয়েছে বলে মনে করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পেট্রলবোমার আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ১৮ জন। আর অর্ধশতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, হরতাল-অবরোধে এখন ককটেলের ব্যবহার বেড়েছে। কারণ পেট্রলবোমা তৈরির চেয়ে ককটেল তৈরিতে খরচ কম। বিভিন্ন সময় নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারাই এই কথা জানিয়েছেন।
পুরান ঢাকার শাখারীবাজারে পেট্রল বোমা ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম বিক্রি করতেন দীপু নন্দী নামের এক ব্যক্তি। তিনি বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। তিনি গ্রেপ্তার হলেও পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ে  ব্যবসার হাল ধরছেন তার স্ত্রী রিতা নন্দী। তবে তিনি এবং তার স্ত্রী এখন আর বাসায় থাকেন না।
তাদের এক আত্মীয় জানান, তারা আগে অবৈধভাবে ভারতের কলকাতা থেকে পেট্রলবোমা ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম আনতেন। এখন সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর থাকায় ওই সরঞ্জাম নিরাপদে আনতে পারছেন না। এছাড়াও পুলিশের তৎপরতার কারণে তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কতজন পিকেটার গ্রেপ্তার হয়েছে এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান গোয়েন্দাদের হাতে নেই। তবে গোয়েন্দারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মাঠ পর্যায়ের পিকেটারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পেট্রলবোমা থেকে ককটেল তৈরির খরচ অনেক কম। একটি পেট্রল বোমা তৈরির করতে পাঁচ থেকে ছয়শ টাকা খরচ হয়। সেখানে একটি ককটেল তৈরিতে তিন থেকে চারশ টাকা খরচ হয়।
এছাড়া নাশকতার ধরন পাল্টাতে ককটেলের ব্যবহার বেশি হচ্ছে বলে মনে করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা  বলেন, হরতাল অবরোধে জনমনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পোড়ানো হতো। তবে এখন ককটেল নিক্ষেপ করে স্প্লিন্টারের আঘাতে মানুষকে আহত করা হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক নেতাদের নাশকতার ধরন পরিবর্তনের একটি কৌশল মাত্র।