সাম্প্রতিক

‘নাক ডাকা’র কারণে বৃদ্ধাকে খুন করে কাজের ছেলে!

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের সরোল-বাগডাঙ্গা গ্রামে বয়োবৃদ্ধা হাজেরা বেগমকে (৯০) গলা কেটে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বাড়ির কাজের ছেলে আল আমিন ভূঁইয়া (২৮) হাজেরাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

রাতে ঘুমন্ত হাজেরার ‘নাক ডাকা’র শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে আল আমিন তাকে (হাজেরা) হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম।

খুনের দায় স্বীকার করা আল আমিন ভূঁইয়াকেও এ সময় সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। অভিযুক্ত আল আমিন নড়াইল সদরের পাইকমারি গ্রামের সাঈদ ভূঁইয়ার ছেলে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন,‘বয়োবৃদ্ধা হাজেরা বেগমকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করেছিলাম, বৃদ্ধার নাতিরা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে। কিন্তু আল আমিনকে আটকের পর সে হাজেরাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

তিনি আরো বলেন, হত্যাকারী আল আমিন পুলিশকে জানায়, বয়োবৃদ্ধা হাজেরার ‘নাক ডাকা’র শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করে সে। পরে ছুরি পুকুরে ফেলে দেয়। আল আমিন হাজেরাদের বাড়িতে কাজ করত এবং একই বাড়িতে হাজেরার পাশের কক্ষে ঘুমাতো। আর পরিবারের সদস্যরা অন্য ঘরে বসবাস করতো।

উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি শুক্রবার গভীর রাতে নড়াইলের লোহাগড়ার সরোল-বাগডাঙ্গা গ্রামে টিনের ঘর থেকে বৃদ্ধা হাজেরাকে তুলে নিয়ে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত হাজেরা বাগডাঙ্গা গ্রামের আমির হোসেনের স্ত্রী।

এলাকার সামাজিকতা ও বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে নিহত হাজেরার পরিবারের সাথে পাশের গ্রামে বসবাসরত নিহতের নাতি আলিজানের বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনার জেরে নাতিরা নানি হাজেরাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশের।

এমনকি হাজেরার ছেলে আকরামও এ হত্যাকান্ডে তার ভাগ্নে আলিজানের সম্পৃক্তার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রকৃত হত্যাকারীকে চিহ্নিত করতে তৎপর হন।

ঘটনার তিনদিন পর প্রকৃত হত্যাকারীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আল আমিন হত্যাকান্ডের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এ নির্মম খুনের বর্ণনা দেয়।