সাম্প্রতিক

দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থি বায়েজীদের পাশে দাঁড়ালেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার


বাইসাইকেল উপহার দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থি বায়েজীদের পাশে দাঁড়ালেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাহাত মান্নান। সহজতর হল ৪ কিলোমিটার দূর থেকে বায়েজিদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম তালুক কররা। তালুক কররা গ্রামের ভূমিহীন দিনমজুর দেলোয়ার হোসেনের ২ সন্তান। ছোট ছেলে বায়েজিদ। বায়েজিদ ছোটবেলা থেকেই বেশ মেধাবী। ক্লাসে ২য় হয়নি কোন দিন। এখন সে ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। বরাবরের মত ১০ম শ্রেণিতেও ফার্স্টবয় সে। লেখাপড়া শিখে সে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সে। কিন্তু বড় হওয়ার, সফল হওয়ার আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখে সে। খেয়ে না খেয়ে সে স্বপ্নকে বাস্তবতা দিতে যারপরনাই পরিশ্রম করে চলেছে। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আইলহাঁস লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাকে। সারাদিন পর বিদ্যালয় থেকে ফিরে ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে পড়ত সে। তার স্বপ্ন পূরণের পথে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের বিস্তর দূরত্ব বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
অদম্য মেধাবী বায়েজিদের এ অসহায়ত্বের কথা, তার স্বপ্নের বাস্তব রূপায়নের ক্ষেত্রে এ সমস্যার কথা এক সময় জানতে পারেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাহাত মান্নান। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলায় শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মেধাবী শিক্ষার্থিদের নানাভাবে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। তারই অংশ হিসেবে গতকাল তিনি বায়েজিদকে ডেকে নেন নিজ কার্যালয়ে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য বায়েজিদের হাতে তুলে দেন একটি বাইসাইকেল। বায়েজিদ বলেন, উপজেলা নির্বাহি অফিসার সে সময় কাছে ডেকে শোনেন তার লালিত স্বপ্নের কথা, তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। উপজেলা নির্বাহি অফিসার ভবিষ্যত সাফল্যের লক্ষ্যে, পড়াশোনার আরও ভাল করতে বায়েজিদকে নানা পরামর্শ দেন বলে জানান।
বায়েজিদের দিনমজুর বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, তার বড় ছেলে আমিরুল ইসলামও খুব মেধাবী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। দেলোয়ার হোসেন বেশ দৃঢ় কন্ঠে বলেন, অনেক কষ্ট করে দুই সন্তানকেই শিক্ষিত করে তুলছেন তিনি। তারা একদিন অনেক বড় হবে, এলাকার ১০ জনের একজন হবে – এমন স্বপ্ন দেখেন তিনি।