সাম্প্রতিক

ডাক্তার রওনক তুহিন; এতটা উপেক্ষা পাওনা ছিল না তাঁর

সাম্প্রতিকী ডেক্স: অনেকটা নিভৃতেই চলে গেলেন আলমডাঙ্গার কৃতি সন্তান ডাক্তার রওনক তুহিন। গত শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ( ইন্না লিল্লাহি —রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছিল। তিনি ঢাকার শাহ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল বাদ জোহর ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি, মা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
একজন সুচিকৎসকই ছিলেন না তিনি, ছিলেন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতি যারপরনাই শ্রদ্ধাশীল। চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া এলাকার অনেক অসহায় মুক্তিযোদ্ধাকে তিনি সানন্দে সহযোগিতা করতেন। মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও এলাকার যারা চিকিৎসার জন্য তার সহযোগিতা ও পরামর্শ চাইতেন, তিনি স্বজনের মত তাদের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।
তবে এলাকার প্রতি এক ধরনের প্রচ্ছন্ন অভিমান ছিল তার। ছাত্র জীবনে অমিত মেধাবী রওনক তুহিন নিজ ট্র্যাক থেকে ছিটকে পড়েছিলেন এক সময়। সে কারণে অনেকেই তার প্রতি এক সময় বীতশ্রদ্ধ ছিলেন হয়ত। কিন্তু নিজের সৃষ্ট সে ক্লেদাক্ত বৃত্ত ভেঙ্গে নিজেকে বের হয়ে এসেছিলেন তিনি। নিজকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কৃতি চিকিৎসক হিসেবে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে রেখেছেন অবদান। প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছিলেন এলাকার অসুস্থ মানুষের স্বজন।
আলমডাঙ্গা শহরের সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান তিনি। মরহুম সিরাজুল ইসলাম রবু মিয়ার সন্তান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে পেশাজীবন শুরু করেন ঢাকাতে। সাংস্কৃতিক জগতেও তার স্বাচ্ছন্দ পদচারণা ছিল। গানের গলা ছিল চমৎকার। তবলা বাদনেও সুখ্যাতি ছিল। শুধু বন্ধুবৎসল ছিলেন না, ছোটদেরও খুব সহজে আপন করে নেওয়ার অসাধারণ সম্মোহনী শক্তি ছিল তার। তার অভাব সহজে পূরণ হবার না।

x

Check Also

গাংনীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-’১৯ অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধিঃ ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ,বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে,বর্ণাঢ্য সড়ক র‌্যালী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান,আলোচনা সভা ...