সাম্প্রতিক

টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলমডাঙ্গায় রিসো এনজিওর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

বেতন, ঘরভাড়া, বিদ্যুতবিল ও জরিপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলমডাঙ্গায় রিসো এনজিওর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে সংশ্লিষ্ট এনজিওর নিয়োগকৃত প্রায় ৬শ শিক্ষক। বিক্ষোভকারি শিক্ষকরা রিসোর সমন্বয়কারি দারুল ইসলামকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও পরে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে তাকে মুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪) জেলা নামক প্রকল্পের বাস্তবায়নকারি সংস্থা হচ্ছে রিসো – রুরাল ইকোনোমিক এন্ড সোসাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এনজিও। গত বছর ১৭ ডিসেম্বর থেকে রিসো আলমডাঙ্গা উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। উপজেলায় ৩শটি বয়স্কদের পড়ালেখার উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৬ মাস মেয়াদী ওই উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের জন্য মাসিক ২৪শ টাকা করে ৩শ জন মহিলা ও ৩শ জন পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর পর এতদিনেও বেতন দেওয়া হয়নি। গতকাল ১৯ মার্চ ছিল বেতন দেওয়ার দিন। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬শ শিক্ষকই গতকাল বেতন তুলতে উপজেলা চত্বরে হাজির হন। তাদের প্রত্যেকের বেতন বাবদ পাওনা ৭ হাজার ২শ টাকা করে হলেও দেওয়া হয় মাত্র এক হাজার ৮০টাকা করে। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শিক্ষকরা। তারা রীতিমত বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প নিয়ে রিসো এনজিও কর্তৃপক্ষের নানা অনিয়ম –দুর্নীতি সম্পর্কে মুখ খোলেন শিক্ষকরা। তারা জানান, শুধু পাওনা বেতন থেকেই শিক্ষকদের সাথে প্রতারণা করছে না রিসো, আছে নানা দুর্নীতি। উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের ঘরভাড়া প্রতি মাসে ৫শ করে দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৩শ বিদ্যালয়ের জন্য ঘরভাড়া দেওয়া হয়েছে মাত্র ২শ টাকা করে। বাকী অর্থেক বিদ্যালয়ের ঘরভাড়া কখনও দেয়নি। বিদ্যূতবিল দেড় শ টাকা করে দেওয়ার শর্ত থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ টাকা করে। জরিপ বাবদ ২ হাজার ৪শ করে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ৬শ শিক্ষককে এক টাকাও দেওয়া হয়নি। এসএমসির সভা বাবদ প্রত্যেক সদস্যকে দেড় শ টাকা করে সন্মানি দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় মাত্র ১শ টাকা করে।
রিসোর সমন্বয়কারি দারুল ইসলাম, কর্মসূচী সমন্বয়কারি আদিল হোসেন ও উপজেলা প্রগ্রামার সাঈদ ইকবাল এ সীমাহীন দুর্নীতির হোতা হিসেবে অভিহিত করেন বিক্ষোভকারি শিক্ষকরা। বিক্ষোভকালে তারা রিসোর সমন্বয়কারি দারুল ইসলামকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে সাঈদ ইকবাল ও আদিল হোসেন মুচলেকা দিয়ে তাকে আলমডাঙ্গা থানা থেকে নিয়ে যান। বিক্ষোভ চলাকালে রিসো এনজিও এবং প্রকল্পের সাথে জড়িতরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী সকলকে শান্ত করেন। সে সময় তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন বলে জানা গেছে।