সাম্প্রতিক

চোরের হাতে খুন মেডিকেল অফিসার

 বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশিপুর এলাকায় মেডিকেল অফিসার মারুফা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একইসাথে হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুল। তিনি জানান, পেশাদার চোরের হাতে খুন হন মারুফা।

গ্রেফতার মোঃ মহসিন শেখ (৩২) পিরোজপুর জেলার খানাকুনিয়ারী এলাকার মোঃ মোস্তফা শেখের ছেলে এবং সে একজন পেশাদার চোর। শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ঘাতক চোর মহসিনের বর্নণার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মহসিন একজন পেশাদার চোর।

সে ভোলায় শশুর বাড়িতে বসবাস করে। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঘাতক মহসিন ভোলা থেকে বরিশাল নগরে এসে রুপাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেন। চুরির উদ্দেশে ওই দিন দিনের বেলায় মারুফার বাসা ও আশপাশ ঘুরে দেখে। ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টার পরে পাশের নির্মানাধীন বিল্ডিং থেকে মারুফার ফ্লাটের পার্শ্ববর্তী বিল্ডিংয়ের ছাদে শাবল নিয়ে অবস্থান নেয়।

সেই ছাদ থেকে চুরি করার উদ্দেশে মারুফার ফ্লাটের বেলকোনিতে প্রবেশ করে। বেলকোনীর দরজা খোলা থাকায় সে ফ্লাটে ঢুকে মারুফার বিছানার পাশে শাবল রেখে চেয়ারের ওপরে থাকা ভেনিটিব্যাগ নিয়ে বেলকোনী দিয়ে পাশের বাসার ছাদে চলে যায়। ভেনিটিব্যাগ তল্লাশি করে ৩০/৪০ টাকা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় চোর মহসিন মারুফার ঘরে প্রবেশ করে স্টীলের খোলা আলমারী তল্লাশি শুরু করে।

শব্দ পেয়ে মারুফা জেগে উঠে চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকলে মহসিন তার শাবল দিয়ে মারুফার মাথায় আঘাত করে। সাথে সাথে মারুফা মাটিতে লুটিয়ে পরেন। মারুফার গোঙাণী আর রক্ত দেখে মহসিন দ্রুত বেলকোনি দিয়ে পাশের বাসার ছাদে চলে যায়। সেখানে নির্মানাধীন আরেকটি বিল্ডিংয়ে ফজরের আজান পর্যন্ত অবস্থান নেয়। তারপর আজানের সময়ে ওই বিল্ডিং থেকে নেমে লঞ্চে করে ভোলা চলে যায়।

এদিকে প্রতিদিনের ন্যায় ৩০ সেপ্টেম্বর (পরের দিন) সকালে জহুরুল হায়দার চৌধুরী স্বপন তার স্ত্রী মারুফাকে ঘুম থেকে ওঠানোর জন্য মোবাইলে ফোন দেয়। স্ত্রী ফোন রিসিভ না করার বাড়িওয়ালাকে বিষয়টি জানায়।

কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরও কোন সারাশব্দ না পেয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় ফ্লাটটি খুলে মারুফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ছয়মাস পরে এয়ারপোর্ট থানার এসআই ফিরোজ আলম মুন্সী মারুফার ঘাতক মহসিনকে চট্রগামের পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে ১৭ এপ্রিল ২০১৯ আটক করা হয়।

উল্লেখ্য, মারুফা এয়ারপোর্ট থানাধীন ২নং কাশিপুর ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপ- সহকারী মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী জহুরুল হায়দার চৌধুরী পন প্রগতি ইনস্যুরেন্স কোম্পানীতে সহকারী ব্যবস্থাপক (উন্নয়ন) হিসেবে ঢাকা মিরপুর শাখায় চাকুরি করতেন।

তারা নি:সন্তান দম্পতি ছিলেন। মারুফা চাকুরির সুবাদে বরিশালের লুৎফর রহমান সড়কে একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন।