সাম্প্রতিক

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ব্রিজে পুনরায় ধস


চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার একমাত্র সংযোগ সেতু মাথাভাঙ্গা ব্রিজের মাঝখানে আবারও ধস নেমেছে। মঙ্গলবার সকালে মাঝখানের কিছু অংশ ধসে নদীতে পড়ে যায়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়ক বিভাগের নির্দেশ উপেক্ষা করে ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলে কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এলাকার সাধারণ মানুষের আশংকা যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়তে পারে। এতে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরের মধ্যে চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের পশ্চিম অংশে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত হয় ব্রিজটি। যা চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার একমাত্র সংযোগ সেতু। মাথাভাঙ্গা ব্রিজ নামে পরিচিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৪০ মিটার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকবাহিনী বোমা ফেলে ব্রিজের পূর্ব দিকের কিছু অংশ উড়িয়ে দেয়। সেই সময় ওই ভাঙা অংশ ভরাট করে পথচারী ও যান চলাচলের উপযোগী করা হয়। তারপর থেকে সেতুটি ব্যবহার হয়ে আসছে।

এরই মধ্যে ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর মাথাভাঙ্গা ব্রিজের মাঝখানে ধসে পড়ে। সেসময় দুই জেলার যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করে যোগাযোগ সচল করে। এদিকে ধসে পড়া স্থানের পাশেই মঙ্গলবার সকালে ব্রিজের কিছু অংশ আবার ধসে পড়ে। এ সময় আতংক সৃষ্টি হয়। এলাকার ভুক্তভোগীরা জানান ব্রিজের ওপর যানবাহন উঠলে ব্রিজটি দোল খাচ্ছে। তাতে মনে হচ্ছে ব্রিজটি ধসে পড়তে পারে। অসংখ্য স্থানে পলেস্তারা খসে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সেতুটি বেঁকিয়ে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভারি ভারি যানবাহন ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করে থাকে। এ কারণেই পুনরায় ধস নেমেছে ব্রিজে।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আহসান হাবিব জানান, ‘১০ টনের বেশি ভারি যানবাহ সড়কে চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। ভারি যানবাহনগুলো ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেগুলো আলমডাঙ্গা বা দর্শনা ঘুরে মেহেরপুরে যাতায়াত করছে। ট্রাফিক ব্যবস্থা যখন বন্ধ থাকে যখন কোনো কোনো সময় হয়তো দু-একটি যানবাহন চলে যেয়ে থাকতে পারে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আদম আলী জানান, ব্রিজের মাঝের অংশ ধসে পড়েছে। মেরামতের কাজ চলছে। ভারী যানবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।