সাম্প্রতিক

চট্রগ্রামে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে ৩ পুলিশ গুরুতর আহত

চট্রগ্রামের রাউজানে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে ঘরে হানা দিলে ডাকাত ভেবে পুলিশ ও এলাকাবাসির সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়েছে।

শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার সময় উপজেলার পাহাড়তলী খান পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।

এতে পুলিশকে ডাকাত ভেবে এলাকার লোকজন লোহার রড, দা কিরিচ, ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে তারাও করলে পুলিশও ৬ রাউন্ড গুলি ছুরে।

এই ঘটনায় আহত পুলিশ কনস্টেবলরা হচ্ছেন – আমানুল হক (১৩৬৪), মিঠুন কুমার (২৪৭০), নুর মোহাম্মদ (১৮৮৮), আহত হয়ে পুলিশের হাতে আটক গৃহের লোকজন হচ্ছেন উপজেলার পাহাড়তলী খান পাড়ার মৃত আবদুল মালেকের পুত্র মো. ফারুক জোনায়েদ (৩৫), আবুল কাসেম (৩৬), কন্যা মাবিয়া খাতুন সুমি (২৫) ও কাসেমের স্ত্রী সুরতুন নেসা (২৮)। এছাড়াও এই ঘটনায় আটক আছেন মৃত আবদুল মালেকের পুত্র মো.নাসিম (৩৭)।

জানা যায়, উপজেলার পাহাড়তলী খানা পাড়ায় ইয়াবা সম্রাট নেজামককে ধরতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ ইমতিয়াজ আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার সময় তার ঘরে হানা দেয়।

এতে পুলিশ ঘরের দরজা গিয়ে গৃহের লোকজনকে ডাকা ডাকি শুরু করলে গৃহের লোকজন ডাকাত ডাকাত চিৎকার করতে থাকে। পরে গৃহের লোকজন বেরিয়ে এসে লোহার রড, কাঠ, দা কিরিচ দিয়ে পুলিশের উপর আক্রমন করতে চাইলে পুলিশ এসময় ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এতে আহত পুলিশ ও গৃহের লোকজনকে প্রথমে রাউজান উপজেলা হাসপাতাল পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

তবে এই ঘটনায় গৃহের মৃত আবদুল মালেকের পুত্র মো. ফারুক জোনায়েদ (৩৫), আবুল কাসেম (৩৬), কন্যা মাবিয়া খাতুন সুমি (২৫) ও কাসেমের স্ত্রী সুরতুন নেসা (২৮) কে আহত অবস্থায় আটক করে পুলিশ।

এছাড়াও আবদুল মালেকের পুত্র মো.নাসিম (৩৭) কে আটক করলেও পালিয়ে যায় ইয়াবা ব্যবসায়ি নেজাম। এ নিয়ে এলাকায় তমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিষয়টি নিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী চুয়েট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ ইমতিয়াজ আলী বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ি নেজামকে ধরতে শনিবার ভোরে নেজামের ঘরে অভিযান পরিচালনা করলে সেই সময়ে নেজামের ঘরের লোকজনসহ এলাকাবাসী দা কিরিচ লাটিসোঠা নিয়ে আমাদের উপর চড়াও হয় এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় আমরা ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করি। এতে আমাদের ৩ কনস্টেবলসহ ৭ জন আহত হয়। বিষয়টি নিয়ে রাউজান থানার এসআই অফিসার এসআই নুর নবী জানান, থানার তালিকভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ি ও ৬ মামলার আসামি নেজামকে পুলিশ ধরতে গেলে ঘরের লোকজন ডাকাত ডাকাত চিৎকার করতে থাকে।

এতে তিন পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়। এদের মধ্য চার জন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এই ঘটনায় আটক ৫ জনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ্য পূর্বক অজ্ঞাত ১৫/২০ জনের নাম উল্লেখ করে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনাকারী চুয়েট পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ ইমতিয়াজ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা রুজু করেন।

x

Check Also

ব্যাগে কাটা মাথা দেখে, ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করল এলাকাবাসী

নেত্রকোণা শহরের নিউ টাউন এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে (২৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। এ ...