সাম্প্রতিক

গণমানুষের বঞ্চনা, বিপ্লবী চেতনা ও অধিকারের নিয়ে সংগীত

গণমানুষের বঞ্চনা, বিপ্লবী চেতনা ও অধিকারের কথা বলে গণসঙ্গীত। আবহমানকাল ধরে সকল গণআন্দোলনের সূত্র ধরে বাংলা গণসঙ্গীত বিকশিত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অসংখ্য নাটক ও গণসংগীতের মাধ্যমে মুখরিত হয়েছে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। সেই ধারাবাহিকতায় সৃজামি সাংস্কৃতিক সঙ্গীত অঙ্গন মে দিবস উপলক্ষে আয়োজন করেছে গণসঙ্গীত বিষয়ক আলোচনা এবং গণসঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান ও কবিতার ও কবিতার গান। গত ১ মে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিটা ক্ষণ ছিলো মনোমুগ্ধকর। অনুষ্ঠানের শুরুতে সৃজামী শিল্পীবৃন্দ পরিবেশন করেন বিখ্যাত গণসঙ্গীত ‘মে দিন এদেশে প্রতিটি দিনই তো মে দিন’। এরপর সংগঠনের দলপ্রধান, নাট্যাভিনেতা ও গণসঙ্গীত শিল্পী সুজিত চক্রবর্তী স্বাগত জানান উপস্থিত দর্শকদের।

আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার (কথাসাহিত্য) ও একুশে পদক (ভাষা ও সাহিত্য) প্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক আহমেদ ইকবাল হায়দার। নবনীতা গুহ লোচন-এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীষ গুহ বুলবুল। গণসঙ্গীত বিষয়ে আলোচনা নাট্যনির্দেশক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, ‘মে দিবস পালন কেবল নিপীড়িত শ্রমজীবী মানুষের দায় নয়, এদেশের সংস্কৃতি কর্মীরাও তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘকাল ধরে একাত্ম হয়েছে শ্রমজীবী মানুষের কাতারে।’ কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস বলেছেন, ‘সৃজামি মানে সৃষ্টি করা, জানা, এ সংগঠন তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা প্রমাণ করে চলেছে।’
বাংলাদেশের অন্যতম গীতিকবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জয়ের লিখা সে বিখ্যাত ‘সবক’টা জানালা খুলে দাও না’ গানটির মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। পরিবেশন করেছেন সঞ্জীতা রায় মুহুরী। এর পর পর গীতিকার খান আতাউর রহমানের কথায়, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ গাওয়া ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা’ গানটি গেয়ে মঞ্চে অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি করেন শিল্পী সঙ্গীতা চক্রবর্ত্তী ও সঞ্চিতা চক্রবর্ত্তী। অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন সঞ্জিতা রায় মুহুরি, সংগীতা চক্রবর্ত্তী, সঞ্চিতা চক্রবর্ত্তী। দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করেন পূজা চক্রবর্ত্তী ও নিতু মহাজন, রিয়া চৌধুরি, অবন্তী দাশ, রশ্মি দেব ও ঐশ্বর্য নাহা রায়। ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কবিতা অবলম্বনে নৃত্য পরিবেশন করেছেন তৃষা দেব।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশিত হয় গণসঙ্গীত শিল্পী সুজিত চক্রবর্তী সুরারোপিত কবিতা থেকে গান। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় কবি হুমায়ুন আজাদ এর কবিতা “ভালো থেকো”, নাট্যকার প্রদীপ দেওয়ানজীর “ফুটপাত”, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লার “সাত পুরুষের ভাঙা নৌকো”, কার্ত্তিক ঘোষের “ভালো মেয়ে ঠিক” এবং আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সুরারোপিত কবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এর কবিতা “সেই রেল লাইনের ধারে”।
এতে অংশগ্রহণ করেন অবন্তী দাশ, সুমা দাশ, পূজা চক্রবর্ত্তী, নিতু মহাজন, ঐশ্বর্য্য নাহা রাই, রশ্মি দেব, অর্পিতা দাশ (অর্পা), অরিভা সেনগুপ্তা, রিতাময়ী চৌধুরী দোলা, অনুশি সেনগুপ্তা, রিয়া চৌধুরী, আমিত্য দাশ, কার্ত্তিক দেব, ময়ুখ দাশ বর্মণ, মনোজিত দাশ বর্মণ, বিজয় বোস, রণি দত্ত, রিমু দেবী, অনুষ্কা দেবনাথ, নিলেশ দেব জয়, সঞ্জিতা রায় মুহুরি, সংগীতা চক্রবর্ত্তী, সঞ্চিতা চক্রবর্ত্তী, দেবযানী চৌধুরি, তুলতুল চৌধুরি, অমিত চক্রবর্ত্তী, নবনীতা গুহ লোচন, তৃষা দেব ও সুজিত চক্রবর্ত্তী।

সৃজামির দলপ্রধান, নাট্যাভিনেতা ও গণসঙ্গীত শিল্পী সুজিত চক্রবর্তীর অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও সঙ্গীত পরিচালনায় আয়োজনের যন্ত্র সংগীত সহযোগিতায় ছিলেন, তবলায়- প্রীতম আচার্য, অক্টোপ্যাডে- নন্দন নন্দী, কী-বোর্ডে- সৃজন রায়, বাঁশীতে- বাদল দাশ, দোতরায়- সুনিল দাশ এবং জিপসিতে- ময়ুখ দাশ বর্মণ।