সাম্প্রতিক

কওমি মাদরাসা নিয়ে কিছু কথা বলেছেন: মেনন সাহেব

কওমি মাদরাসা ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে নিয়ে ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি বলেন, আমি নিজেও কওমি সন্তান। কওমি সনদ প্রদানের ব্যাপারে সংসদে আইন পাস হয়েছে। এখন এটার ওপর কথা বলা কাম্য নয়। রোববার বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে গতকাল মেননের বক্তব্যে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দল জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। তিনি মেননের বক্তব্য এক্সপান্স করতে বলেন স্পিকারকে। রাশেদ খান মেনন সংসদে দেয়া বক্তব্যে কওমি সনদ প্রদান দিয়ে বিষবৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে কি না সতর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন। 

নদভী বলেন, এখানে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন সাহেব কওমি মাদরাসা নিয়ে কিছু কথা বলেছেন। এতে আমরা আহত হয়েছি। ওনার (মেনন) সঙ্গে আমার বারবার মিটিং করার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু উনি কয়েকটি কথা বলেছেন যে কথার মাধ্যমে আমরা একটু আহত হয়েছি। যেহেতু আমরাও কওমি সন্তান। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমি ভারতের লখনৌ থেকে পিএইচডি করেছি।

তিনি বলেন, এই সংসদে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দিয়ে আইন পাস হয়েছে। সব সংসদ সদস্য একমত হয়ে আইন পাস করেছি। আবার এটার ওপর কথা বলা কোনো রকম কাম্য নয়। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেন না, যতদিন পর্যন্ত উনি ফিজিবিলিটি স্টাডি না করেন। উনি কওমি মাদরাসার আইনটা ৯ বছর ধরে স্টাডি করেছেন। ৯ বছর স্টাডি করার পরে দেওবন্দের উসুলে হস্তখানা আট নীতিমালা দেওবন্দের নেছারে আইন পাস করেছেন। এরপরে কথা বলা কাম্য নয়। কেন পাস করেছেন? ইনসাফ কায়েম করার জন্য, আদব কায়েম করার জন্য। ২০ হাজার কওমি মাদরাসায় ২০ লাখ কওমি শিক্ষার্থী। ওনাদের প্রতি তিনি ইনসাফ করেছেন।

নদভী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সবাই খুশি হয়েছেন, পুরো মুসলিম বিশ্ব খুশি হয়েছে, মুসলিম বিশ্বের ওলামারা খুশি হয়েছেন। শুধু একটা দল খুশি হয় নাই সেটা হলো জামায়েতে ইসলামী। কওমি স্বীকৃতি কওমি আকিদাতে তারা খুশি হতে পারেন নাই। 
কারণ এই আইনে দুটি আকিদাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি হলো নবী রাসূলদের নিষ্পাপ হওয়া ও সাহাবিদের সমালোচনা না করা সম্পর্কিত। তিনি বলেন, খতমে নবুয়তের বিষয় নিয়ে না জেনে কারও কথা বলা উচিত নয়।