সাম্প্রতিক

এজেন্টদের ‘হাত কেটে নেয়া’র হুমকিদাতা ৪ চেয়ারম্যানের গ্রেফতার দাবি

‘ভোটকেন্দ্রে আনারসের এজেন্ট ধাকলে তার হাত কেটে নেয়া হবে। নৌকার বাইরে কাউকে ভোট দিতে দেয়া হবে না’- এমন হুমকি দেয়ায় চারজন ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম পিন্টু।

সকাল ৮টার পরিবর্তে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আশাশুনিতে ভোটগ্রহণের দিন সকালে ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি তুলে ধরেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম পিন্টু।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ সকালে আনারস প্রতীকের পোস্টার সাঁটার কারণে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম তুয়ারডাঙ্গা গ্রামের মঞ্জুর মাহবুবের দোকানে ঢুকে তাকে হেনস্তা করেন। তাকে গাছে উঠিয়ে আনারসের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে বাধ্য করেন। চেয়ারম্যান ডালিম মঞ্জুর মাহবুবের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন।

শহিদুল ইসলাম পিন্টু অভিযোগ করেন, আশাশুনিতে নৌকা প্রতীক পাওয়া আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী এবিএম মোস্তাকিম, তার সহযোগী খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম, আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল ও প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে আপত্তিকর ঘোষণা দিচ্ছেন। তারা বলছেন- ‘ভোটে আনারসের এজেন্ট থাকলে হাত কেটে নেয়া হবে। ভোটকেন্দ্রে আসার দরকার নেই। ভোট আমরা নিজেরা দিয়ে নেব’।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম পিন্টু বলেন, গত ১৪ মার্চ আনারস প্রতীকের পক্ষে প্রচারে বের হলে কুল্ল্যা মোড়ে তার কর্মী নুর ইসলাম ও ইব্রাহিম খলিলকে মারপিট করে সাদ্দাম, সিদ্দিক, রুবেল, মিকাইল ও বাদশাসহ কয়েকজন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই দিনে তার কর্মী রেজাউল করিম ফুলবাবুসহ কয়েজন চেউটিয়ায় পৌঁছালে চেয়ারম্যান ডালিমসহ কয়েক সন্ত্রাসী তাকে মারধর করে ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আহত ফুলবাবুকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থী প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করছেন। এসব বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি রিটার্নিং অফিসারও কোনো ব্যবস্থা নেননি।

পিন্টু বলেন, ভোটে হাঙ্গামা ও কারচুপির আতংকে রয়েছি। কর্মীরা কাজ করতে পারছেন না।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম পিন্টু চারটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ভোটের আগের দিন নয় ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠাতে হবে। ভোটগ্রহণ শুরু করতে হবে সকাল ৯টায়। উপজেলার ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সেনা সদস্য মোতায়েন করতে হবে। একই সঙ্গে চার ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম, আলমগীর আলম লিটন, আবু হেনা সাকিল ও জাকির হোসেন এবং খুন ডাকাতিসহ ৩০টিরও বেশি মামলার আসামি তুয়ারডাঙ্গার আনারুল, ফকরাবাদের সোহরাব, জগদীশ সানা, আঙ্গুর হোসেন, এজদান ও বিজনসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এবিএম মোস্তাকিম বলেন, ‘ পিন্টু সাহেব তার দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি যেসব অভিযোগ তুলেছেন তার একটিও সত্য নয়। হেরে যাওয়ার ভয়ে তিনি এসব বলছেন। হুমকি ও মারপিটের কথা সত্য নয়। আমি ও আমার কর্মীরা আচরণবিধি লংঘন করছি না। কোনো সন্ত্রাসেও বিশ্বাস করি না’।