সাম্প্রতিক

আড়াই মাসে এক উপজেলায় নৌকার ভোট কমেছে সোয়া লাখ!

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ তথা নৌকা মার্কার ভোট কমেছে সোয়া লক্ষাধিক। এমনকি বগুড়া-১ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের কেন্দ্রেও নৌকার পরাজয় হয়েছে। সেখানে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার বিজয়ী হলেও হঠাৎ করে ভোট কমে যাওয়ায় সাধারণ জনগণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকে বলছেন, উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে কোন্দলে এমনটা হয়েছে। জনগণ এ অবস্থা থেকে বের থেকে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সারিয়াকান্দি উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল মান্নান পেয়েছেন এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৫০ ভোট। আড়াই মাসের ব্যবধানে ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার পান মাত্র ২১ হাজার ২১১ ভোট।

সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নানের কেন্দ্রে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা টিপু সুলতান নৌকার প্রার্থীর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন।

অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার অল্পভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেও আওয়ামী লীগের বিপুল পরিমাণ ভোট কোথায় গেলো তা নিয়ে উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।

এমপি আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাহাদারা মান্নান ভোট দেন হিন্দুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে ভোটার তিন হাজার ৯৩২ জন। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে আবদুল মান্নান পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৬৫৬ ভোট। তার নিকটতম বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম পান মাত্র ১৬ ভোট।

এ কেন্দ্রে মাত্র দুই মাস ১৭ দিন পর আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার পেয়েছেন মাত্র ২০৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত টিপু সুলতান পান এক হাজার ৩৮৭ ভোট। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবদুস সালাম ৭৯ ও শাজাহান আলী ৫৭ ভোট।

একই অবস্থা হয়েছে, গোদাগাড়ি, নারচি, গণকপাড়া, কুপতলা ও রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এসব কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের তিন দিন আগে ১৫ মার্চ আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন, এমপি আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী সাহাদারা মান্নান তার বিপক্ষে কাজ করছেন। তারা তাকে পরাজিত করতে পাল্টা প্রার্থী দিয়েছেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে প্রভাবিত ও নৌকা মার্কার ভোটারদের হয়রানি ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেন।

পরদিন ১৬ মার্চ একই প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এমপির স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো দৃঢতার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে পত্রিকাগুলোতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ হয়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুব্ধ ও সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানকে হেয় করা হয়েছে।

হিন্দুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে বহিষ্কৃত বিএনপি প্রার্থী (হেলিকপ্টার) বেশি ভোট পাওয়া প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকারের সমর্থকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এমপি ও তার স্ত্রীর ভয়ে ভোটাররা নৌকায় ভোট দেননি।

এ প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, এবার ভোটারদের মাঝে উৎসাহ কম ছিল। এ জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ছিল না। প্রার্থী ঠিকমতো ভোটারদের কেন্দ্রে টানতে না পারায় ভোট কম পেয়েছেন।