সাম্প্রতিক

আরও ২ জনের পরিচয় মিলেছে

রাজধানীর মিরপুর থেকে উদ্ধার হওয়া চার গুলিবিদ্ধ লাশের মধ্যে আরও দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মিনিবাসের হেলপার সুমন রবি দাস (১৭) ও তার বন্ধু রবিন (১৬)। এ নিয়ে তিনজনের লাশ শনাক্ত কর হলে। অন্যজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

সুমনের বাবা জনি রবি দাস ও মা জোৎস্না দাস মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসে ছেলের (সুমন) লাশ শনাক্ত করেন। জনি দাস জানান, তারা

মিরপুর-১১ নম্বরের সি ব্লকের কালসী কবরস্থান বস্তিতে থাকেন। তিনি ওই বস্তির পাশেই মুচির কাজ করেন। সুমন গাবতলী-উত্তরা রুটের কোস্টার গাড়ির হেলপারি করত।

তিনি বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমি যখন কাজ করছিলাম, তখনও আশপাশে ওকে দেখেছি। তার পর থেকে সুমনের আর কোনো খোঁজ ছিল না। সোমবার বিকাল ৩টার দিকে থানায় গেলে জানতে পারি ঢাকা মেডিকেলে চারজনের লাশ আছে।’

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। আমি কিংবা আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করি না। আমার ছেলেকে কেন পুলিশ গুলি করে মারল?’ এদিকে সুমনের

পাশাপাশি তার বন্ধু রবিনের লাশ দেখে তার স্বজনদেরও খবর দেন জনি দাস। খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে ছুটে আসেন রবিনের দাদি ও চাচা সুজন। পরে তারা রবিনের লাশ শনাক্ত করেন।

রবিনের দাদী জানান, তার নাতি টেম্পোর হেলপারি করত। জন্মের পরই মা মারা যায়। এর পর থেকে রবিন তার কাছেই মিরপুর-১১ নম্বরের ভাড়া বাসায় থাকত। রবিনের বাবা আর একটি বিয়ে করে অন্য এলাকায় থাকে। তাদের গ্রামের বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।

তিনি জানান, রবিবার রাত ১০টার দিকে এক হিজড়া এসে তার নাতি রবিনকে ডেকে নিয়ে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এর আগে আব্দুল ওয়াদুদ বেপারী (৩০) নামে একজনের লাশ শনাক্ত করা হয়। তিনি চাঁদপুরের মতলব উপজেলার সরদারকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলী বেপারীর ছেলে।

ঢামেক হাসপাতালে এসে সোমবার চাচা চাঁন মিয়া বেপারী তার (ওয়াদুদ) লাশ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, ওয়াদুদ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মিরপুর-১ এর টোলারবাগের ৯/৪ নম্বর বাসায় থাকত। ওয়াদুদ ঝুটের ব্যবসা করত। সে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।

তিনি বলেন, ‘রবিবার রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ওয়াদুদ। এর পর আর সে বাসায় ফিরে আসেনি। রাতে পরিচিত কয়েকজন এসে জানায়, তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। সোমবার সকালে তার লাশ পেলাম।’

রাজধানীর মিরপুর থেকে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের সময় তারা গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে নিহত হন। পুলিশ আরও জানায়, নিহতদের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।

মিরপুরের কাজীপাড়া বাইশবাড়ী ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় রবিবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ জানান, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের সময় জনতা গণধোলাই দিলে তারা নিহত হন। তবে নিহতদের প্রত্যেকের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।

এর পর পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়।