সাম্প্রতিক

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে

মারা যাওয়ার প্রায় চার মাস পর মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই পরোয়ানা জারি হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম মো. আবুল হোসেন হাওলাদার (৫৫)। তিনি ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর মারা যান। ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন খাঁন গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আবুল হোসেন ও তাঁর ছোট ভাই কালিশুরী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে থাকা একটি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যৌতুক চাওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোসিংগা গ্রামের মো. জসিম মৃধার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের ২৩ জুন ফরিদা তাঁর স্বামী জসিম মৃধার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার পর থেকে ফরিদা তাঁর ভাই আবুল হোসেন ও খলিলুর রহমানের বাড়িতে থাকেন। জসিম মৃধা পরে তাঁর স্ত্রী ফরিদার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর পটুয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে স্ত্রী ফরিদার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন জসিম মৃধা। মামলায় উল্লেখ করা হয়, আসামিদের কাছে জসিম আট লাখ টাকা পাবেন। আদালত মামলাটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাউফল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন খানকে নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর তিনি সরেজমিনে মামলাটির তদন্ত করেন এবং মামলার সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন মামলার আরজির ঘটনা সত্য।

তবে এই মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মো. রিয়াজ মৃধা বলেন, মামলা ও মামলার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর সঙ্গে চেয়ারম্যান মো. জসিম কোনো কথা বলেননি বলেও দাবি করেছেন রিয়াজ।

মৃত আবুল হোসেনের ছোট ভাই মো. খলিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কোনো ধরনের সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই আমার ও আমার মৃত ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছেন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন খান। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।’

সব সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেছেন দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার বাদী আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বিবাদীরা আমার পার্শ্ববর্তী মদনপুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। কিন্তু আসামি মো. আবুল হোসেন মারা গেছেন এই বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি।’সুত্র: প্রথম আলো।